যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দেশটির বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। এ হামলায় তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিও আহত হয়ে বর্তমানে বিশ্রামে আছেন। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান।
ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দোনজামালি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে জাতীয় দলের খেলা সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, “যে দেশ আমাদের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করেছে, সেই দেশে গিয়ে আমরা ফুটবল খেলতে পারি না। গত নয় মাসে আমাদের ওপর দুটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে আমাদের কয়েক হাজার নাগরিক নিহত হয়েছেন। এই বাস্তবতায় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ নেই।”
ক্রীড়া বিষয়ক ওয়েবসাইট গোল ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের নিরাপত্তা ও অংশগ্রহণের বিষয়ে আশ্বাস দিলেও দেশটি বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফার জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। ইরান সরে দাঁড়ালে তাদের জায়গায় কোন দল সুযোগ পাবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এ বিষয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের নারী ফুটবল দলও আলোচনায় এসেছে। এএফসি নারী এশিয়ান কাপে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীত না গাওয়ায় দলটি শিরোনামে আসে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাদের ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেও আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। ফলে দেশে ফিরলে তাদের শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের নারী দলের পাঁচ ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ায় মানবিক আশ্রয় চেয়েছেন। জানা যায়, দলের তত্ত্বাবধায়কদের চোখ এড়িয়ে তারা হোটেল থেকে বের হয়ে আসেন। এরপর অস্ট্রেলীয় ফেডারেল পুলিশ ও কুইন্সল্যান্ড পুলিশ তাদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার বিকেলে অজ্ঞাতসংখ্যক ইরানি খেলোয়াড়কে নিয়ে একটি বাস কড়া পুলিশ পাহারায় হোটেল থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এর আগে গোল্ড কোস্টের রোবিনা স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে ইরানের নারী দল মাঠ ছাড়ার সময় অস্ট্রেলীয় কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যাতে দলের কেউ সাহায্য চাইলে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়া যায়।
পরে পাঁচ ফুটবলার আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয়ের আবেদন করলে দ্রুত তাদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয় এবং মানবিক ভিসা দেওয়া হয়। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক রাতেই ফুটবলারদের সঙ্গে দেখা করেন এবং অস্থায়ী মানবিক ভিসার আবেদনে স্বাক্ষর করেন। সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর ভোররাতে ব্রিসবেনের একটি নিরাপদ স্থানে গিয়ে তারা স্বস্তি ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।



