বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সতেরো বছরের বেশি সময় লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার পর বৃহস্পতিবার দেশে ফিরছেন। দেশে ফেরার মাধ্যমে তার দলের ভেতরে ও বাইরে তৈরি হওয়া উদ্বেগ কমে এসেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, তারেক রহমানের ফেরা দলের নেতা, কর্মী ও সমর্থকদের কাছে অনেকটা ‘ধ্বংসস্তূপ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর মতো’ স্বস্তি বয়ে এনেছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দলটি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংগঠিত ও জনপ্রিয় হওয়ার পর আবার তারেক রহমানের সরাসরি নেতৃত্বে পরিচালিত হওয়ার পথে পদার্পণ করলো।
তবে দেশে ফেরার বিষয়ে তার নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ নেই, সেটি কাদের হাতে তা দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি। আগে থেকেই বলা হয়েছিল যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারেক রহমানই দলের নেতৃত্ব দেবেন। এবারই তিনি নিজের রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবার সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে।
রাজনৈতিক জীবন ও উত্থান: তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। প্রাথমিক পড়াশোনা করেছেন ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজে এবং আশির দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। মুক্তিযুদ্ধের সময় তারেকসহ তার পরিবারের দুই ছেলে বন্দি ছিলেন।
১৯৮৮ সালে তিনি বগুড়া জেলা বিএনপির গাবতলী উপজেলা ইউনিটে যোগ দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সঙ্গে যুক্ত হন। তবে দলের রাজনীতিতে শক্ত প্রভাব তৈরির সূচনা হয় ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনের সময়। ওই নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। নির্বাচনী কৌশল ও প্রচারে হাওয়া ভবন অফিস ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তারেক রহমান।
২০০২ সালে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে অধিষ্ঠিত হন। পরে ২০০৯ সালে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন।
সমস্যা ও দেশের বাইরে অবস্থান: ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তাকে আটক করা হয় এবং রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতন করা হয় বলে বিএনপি অভিযোগ করে। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পরিবারের সঙ্গে লন্ডনে যান। লন্ডনে থাকাকালীন সময়ে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
অনলাইন মাধ্যমে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার মাধ্যমে তিনি দলের সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ন্ত্রণে সক্ষম হন।
ফেরা ও ভবিষ্যৎ: বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও তারেক রহমান দলকে সুসংহত রাখতে পেরেছেন। তার পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হবে দলের নেতৃত্ব থেকে দেশের নেতৃত্বে উঠে আসা।
ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, তারেক রহমানের চিন্তা ও দর্শন জিয়াউর রহমানের মতো। তিনি তৃণমূলে কাজ করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং রাজনীতিকে জ্ঞানভিত্তিক ও উন্নয়নকেন্দ্রিক করার পরিকল্পনা করেছেন। ফলে বিএনপি দেশের উন্নয়নের জন্য সঠিক নেতৃত্ব পেয়েছে।



