tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদজাতীয়বিদায়ী অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণ ১.৩১ লাখ কোটি টাকা

বিদায়ী অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণ ১.৩১ লাখ কোটি টাকা

২০২৫-২৬ অর্থবছরে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের নিট ঋণ গ্রহণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা বেশি। তবে এই অতিরিক্ত ঋণকে কেন্দ্র করে আপাতত ব্যাংকিং খাতে বড় কোনো ঝুঁকি দেখছে না বাংলাদেশ ব্যাংক

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি—উভয় খাতেই ঋণের চাহিদা তুলনামূলক কম ছিল। বিশেষ করে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের ধীরগতির কারণে ঋণ প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণেও ব্যাংকগুলোর তারল্যের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় ৫ শতাংশে নেমে এসেছে, যা বিনিয়োগের মন্থর গতির প্রতিফলন। এ প্রেক্ষাপটে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথমার্ধের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৬ দশমিক ৮ শতাংশ এবং পুরো অর্থবছরের জন্য ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত তারল্য রয়েছে। ফলে সরকারি ঋণ গ্রহণের কারণে শিল্প, উৎপাদন কিংবা বেসরকারি বিনিয়োগে ঋণপ্রবাহে তাৎক্ষণিক কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই। তবে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ঋণের চাহিদা বিবেচনায় সরকারি ঋণ এবং ব্যাংকিং খাতের তারল্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ০.৭০ শতাংশ বেড়েছে। তবে বার্ষিক হিসাবে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪.৭২ শতাংশ, যা সাড়ে ৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, সরকারের তুলনামূলক বেশি ঋণ গ্রহণও বেসরকারি খাতের ঋণপ্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রার নিচে থাকার অন্যতম কারণ।

অন্যদিকে সরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে সরকারি খাতে পুঞ্জীভূত ঋণ বেড়েছিল ৬.১৪ শতাংশ। জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে তা বেড়ে ১২.৩৬ শতাংশে পৌঁছায়। বার্ষিক ভিত্তিতে সরকারি ঋণপ্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩৫.৯০ শতাংশ

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৪ জুন পর্যন্ত সরকার যে নিট ঋণ নিয়েছে, তার মধ্যে ১ লাখ ২৩ হাজার ৪০২ কোটি টাকা এসেছে তফসিলি ব্যাংকগুলো থেকে, যা মোট ঋণের প্রায় ৯৪ শতাংশ। বাকি ৮ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার আশঙ্কায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে সরাসরি অর্থায়ন বা নতুন টাকা ছাপিয়ে ঋণ দেওয়ার প্রবণতা সীমিত রাখা হয়েছে। ফলে সরকারের অর্থায়নের বড় অংশের চাপ বহন করেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে সরকার ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করছে। তবে বেসরকারি খাত এখনো পুরোপুরি ঋণ গ্রহণের অবস্থায় ফিরে আসেনি। দীর্ঘ সময়ের ধীর ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পর অনেক প্রতিষ্ঠান পুনরুদ্ধার পর্যায়ে রয়েছে। তাই সরকারি ঋণের কারণে বেসরকারি খাত ঋণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে—এমন পরিস্থিতি এখনো সৃষ্টি হয়নি। তবে ভবিষ্যতে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লে বিষয়টি নতুন করে মূল্যায়ন করা হবে।

এদিকে মে ও জুন মাসে রাজস্ব আদায়ে কিছুটা উন্নতি হলেও, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৮৮ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় করেছে।

চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের গবেষণা ফেলো এম হেলাল আহমেদ জনি বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকারি ব্যয় বাড়ায় বিদায়ী অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণও বেড়েছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের দুর্বল কার্যক্রম রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতির কারণে সরকারি বিনিয়োগসংশ্লিষ্ট কর আদায়ও প্রত্যাশার তুলনায় কম হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরে বেসরকারি খাতের কার্যক্রম ও রাজস্ব আদায় ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।