tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদরাজনীতিবিএনপিকে আলোচনায় বসার আহ্বান জামায়াতের

বিএনপিকে আলোচনায় বসার আহ্বান জামায়াতের

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা আলোচনার জন্য বিএনপিকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। রোববার রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,

“জামায়াতে ইসলামী বিএনপির সঙ্গে কোনো বিরোধ বা ঝগড়ায় জড়াতে চায় না। যত উসকানিই দেওয়া হোক, আসুন এসব বন্ধ করি। দেশের এই পরিস্থিতি নিয়ে আমরা একসঙ্গে বসে খোলামেলা আলোচনা করি। এতে জাতি স্বস্তি পাবে। আমরা আলোচনা করব— কিভাবে সত্যিকারের একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়।”

তিনি জানান, সোমবার জামায়াতের দলীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে।বিএনপিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. তাহের বলেন, “আমরা এই আহ্বান এখন মিডিয়ার মাধ্যমে জানাচ্ছি। দেখি তারা আগামীকাল কী প্রতিক্রিয়া দেখায়।”

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও অন্যান্য ইস্যুতে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “তারা আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভ প্রচার করছে। বিএনপি নেতারা একেকজন একেক অধ্যায় নিয়েছে জামায়াতের বিরুদ্ধে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা মিথ্যা বলেছি। তিনি যেন স্পষ্ট করে বলেন, কোন বিষয়ে আমরা মিথ্যা বলেছি। বিএনপির আরেক নেতা বলেছেন, জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা উচিত। কিন্তু ১৯৯১ সালে যদি তারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করত, তাহলে কীভাবে সরকার গঠন করত?”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, “১৯৯১ সালে আমরা ১৮টি আসন পেয়েছিলাম। তখন বেগম খালেদা জিয়া আমাদের সহযোগিতা চেয়েছিলেন, এবং আমরা চিঠি দিয়ে তাদের সমর্থন জানিয়েছিলাম। আজ বিএনপি আমাদের নিয়ে এমন মন্তব্য করছে যা সত্যি হলে তারাই বেকায়দায় পড়বে। আমরা একটি সভ্য রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সব আন্দোলনে আমরা ছিলাম, তবুও আমাদের নেতাকর্মীদের ফাঁসি দেওয়া হয়েছে— তাদের হয়নি। ক্ষতি আমাদের হয়েছে, কিন্তু সুবিধা ভোগ করেছে তারা।”
ডা. তাহের বলেন, “বিএনপি আওয়ামী লীগের ন্যারেটিভই দিচ্ছে। তারা ততক্ষণ বিএনপি থাকে যতক্ষণ আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে। কিন্তু যখন আমাদের সঙ্গে বিরোধে নামে, তখন আওয়ামী লীগের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। এটি রাজনৈতিক সততার অভাব।”

গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিএনপি বলেছে দুই নির্বাচন একসঙ্গে হবে। কিন্তু দুটি ভোটের চরিত্র ভিন্ন। জাতীয় নির্বাচন গণভোটের চেয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কেউ কেউ বলছেন, গণভোটে তিন হাজার কোটি টাকা লাগবে— কিন্তু জাতীয় সংকট সমাধানে এই খরচ কিছুই নয়। ফ্যাসিবাদীরা যে পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার করেছে, তা দিয়ে এক হাজার গণভোট করা সম্ভব।”

তিনি অভিযোগ করেন, “বিএনপি এখন পতিত স্বৈরশাসকদের মতো একই ভাষায় জামায়াতের বিরুদ্ধে হাস্যকর বক্তব্য দিচ্ছে। এতে তারা অকৃতজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছে। তারা এখন ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের ভূমিকা পালন করছে। দেশে যে সংকট চলছে, তা বিএনপিই সৃষ্টি করেছে। জামায়াত কখনো প্রতারণা, ধোঁকাবাজি বা মুনাফিকির রাজনীতি করে না— বরং বিএনপিই এসবের পরিচয় দিচ্ছে।”

ডা. তাহের আরও বলেন, “বিগত ৫৪ বছরে বারবার সরকার পরিবর্তন হলেও জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। যারা ক্ষমতায় গিয়েছে, তারা লুটপাট, দলীয়করণ ও আত্মীয়করণের আশ্রয় নিয়েছে। জনগণ এখন এই অবস্থার পরিবর্তন চায়।”

তিনি বলেন, “বিএনপি প্রথম থেকেই সংস্কারের বিষয়ে অনীহা দেখিয়েছে। তারা নিজেদের সংস্কারের পিতা দাবি করলেও বাস্তবে সব সময়ই সংস্কারের বিরোধিতা করেছে। দুনিয়ার কোথাও ‘নোট অব ডিসেন্ট’-এর ওপর গণভোট হয় না।”

তাহের বলেন, “জামায়াতে ইসলামী কখনো মিথ্যা বক্তব্য দেয় না। বিএনপির মহাসচিব জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন। এখন মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে গিয়ে তারাই বিপদে পড়েছে। অথচ আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে।”

তিনি বলেন, “ড. ইউনূস জনগণের সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় এসেছেন। তার সততা, যোগ্যতা ও আন্তরিকতা নিয়ে কারও প্রশ্ন নেই। কিন্তু বিএনপি বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে চাচ্ছে। সরকারকে নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং কোনো পক্ষের ফাঁদে পা দেওয়া চলবে না।”

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মাওলানা আবদুল হালিম, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।