tanaka

ডিসেম্বর ঘিরে রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা চলছে নানা হিসাব-নিকাশ

বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবচেয়ে আলোচিত শব্দগুলোর একটি ‘ডিসেম্বর’। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে...
প্রচ্ছদরাজনীতিবাজেটে নতুন বাংলাদেশ গঠনে যুগান্তকারী উদ্যোগ আসছে: মির্জা ফখরুল

বাজেটে নতুন বাংলাদেশ গঠনে যুগান্তকারী উদ্যোগ আসছে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী ১১ জুন জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট উপস্থাপন করা হবে। এ বাজেটের মাধ্যমে একটি আধুনিক, সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সোমবার (৮ জুন) রাতে রাজধানীর বাসাবো বৌদ্ধ মন্দিরে মহান স্বাধীনতার ঘোষক ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদৎবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ প্রার্থনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে একটি ‘রেইনবো স্টেট’ বা বহুত্ববাদী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বসবাস করবে। কিন্তু একটি গোষ্ঠী ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টি করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনাকেও অস্বীকার করতে চায়। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা রাষ্ট্রনায়ক। দেশের সংকটময় সময়ে তিনি নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ দেখিয়েছিলেন। তার নেতৃত্ব ও দূরদর্শিতার কারণেই দেশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পথে এগিয়ে যেতে পেরেছিল।”

তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর ধরে জিয়াউর রহমানের অবদানকে খাটো করার চেষ্টা করা হলেও জনগণের হৃদয় ও ইতিহাস থেকে তাকে মুছে ফেলা সম্ভব হয়নি। “আজ ইতিহাস তাকে যথাযথ মর্যাদায় ধারণ করেছে,” বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের অবদান অনস্বীকার্য। মুক্তবাজার অর্থনীতির সূচনা, বিদেশে জনশক্তি রপ্তানি, রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, তৈরি পোশাক শিল্পের বিকাশ, কৃষি উন্নয়ন এবং খাল খনন কর্মসূচিসহ নানা উদ্যোগ তার সময়েই শুরু হয়েছিল।”

নারীর ক্ষমতায়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, “এসএসসি পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা নারীর অগ্রযাত্রার নতুন দ্বার উন্মোচন করেছিল।”

তিনি দাবি করেন, জনগণের সমর্থনে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও বিভিন্ন ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী প্রদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে খেলাধুলার প্রসার এবং ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচি পুনরায় চালুর মাধ্যমে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারসহ অন্যান্য অতিথিরা।