tanaka

গুলশানে আওয়ামী লীগের মিছিলে অংশ নেওয়া ৩২ জন গ্রেফতার

রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিলে সরাসরি অংশ নেওয়ার অভিযোগে ৩২ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ...
প্রচ্ছদটপ নিউজবন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে প্রধানমন্ত্রী: মাহদী আমিন

সারা দেশে বন্যা ও দুর্যোগকবলিত এলাকাগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় উদ্ধার, সুরক্ষা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।

শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন জানান, টানা ভারী বর্ষণের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা। এসব এলাকার পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন এবং বিভিন্ন টিমের মাধ্যমে নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ জেলার বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জন এবং ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে জনগণের পাশে থেকে কীভাবে কার্যকরভাবে কাজ করতে হবে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আগামীকাল দেশের সব বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের মতামত নেবেন এবং পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

উদ্ধার কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব স্তরের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থেকে শুরু করে ডিসি, এসপি, ওসি—সব পর্যায়ে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বন্যা মোকাবিলায় প্রতিটি মন্ত্রণালয় নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে, তিনি সরাসরি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতারাও নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।

মাহদী আমিন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দলীয় নেতাকর্মীদেরও বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্থানীয়ভাবে ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।

তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ইতোমধ্যে ২ কোটির বেশি টাকার আর্থিক সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ চলছে। যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যাকবলিত জেলার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, উপকূলীয় এলাকায় কোস্টগার্ড, সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে।

সম্ভাব্য পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি। সাপের কামড়ের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলে দ্রুত সড়ক ও রেলপথ সংস্কারের জন্য এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষি, মৎস্য ও গবাদিপশু খাতে যারা ক্ষতির মুখে পড়েছেন, তাদের ক্ষতিপূরণের বিষয়েও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মাহদী আমিন জানান, এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কিছু এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কে সমস্যা থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে কাজ করছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার একই সঙ্গে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন—এই তিনটি ধাপে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। দুর্যোগের সময় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ও রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একযোগে কাজ করলে এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানসহ সারা দেশের বন্যা, পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাদ্য, পানি, আশ্রয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়েই পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মাহদী আমিন জানান, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের সব পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌল্লা (সুজন মাহমুদ) ও শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এবং সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক ও আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার।