ইরানের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই দেশজুড়ে বন্ধ থাকা ইন্টারনেট সেবা দ্রুত পুনরায় চালু করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, সোমবার (১২ জানুয়ারি) তিনি বলেন, ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সরকার সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, খুব শিগগিরই বিদেশি দূতাবাস ও সরকারি মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে ডিজিটাল যোগাযোগ পুনঃস্থাপন করা হবে।
উল্লেখ্য, সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনের অংশ হিসেবে গত চার দিন ধরে ইরানে সম্পূর্ণভাবে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও তীব্র মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, এ আন্দোলনে এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ইরান সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।
এদিকে, ইরানিদের ইন্টারনেট সুবিধা দিতে বিকল্প ব্যবস্থার কথা বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’ চালুর বিষয়ে তিনি স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন।
ইলন মাস্কের দক্ষতার প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্টারলিংক একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে। এর আগে ২০২২ সালে মাহশা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিক্ষোভের সময়ও বাইডেন প্রশাসনের সহযোগিতায় ইরানিদের জন্য স্টারলিংক সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।



