tanaka
প্রচ্ছদলাইফষ্টাইলসাধারণ পেটব্যথার আড়ালে বিরল ক্যানসার, যে লক্ষণগুলো অবহেলা নয়

সাধারণ পেটব্যথার আড়ালে বিরল ক্যানসার, যে লক্ষণগুলো অবহেলা নয়

পেটব্যথা, গ্যাস বা অম্বল—এসব সমস্যা দৈনন্দিন জীবনে খুবই সাধারণ। তাই অনেকেই এমন উপসর্গকে গুরুতর কিছু মনে করেন না। কিন্তু কখনো কখনো সাধারণ মনে হওয়া এসব লক্ষণের আড়ালেও জটিল রোগ লুকিয়ে থাকতে পারে। যেমন সম্প্রতি ভারতের দিল্লির ৪৩ বছর বয়সী এক নারীর ক্ষেত্রে পেটের সমস্যার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে অ্যাপেন্ডিক্সে বিরল ধরনের ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ওই নারী পেটব্যথাকে সাধারণ সমস্যা মনে করে ব্যথানাশক ও অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করছিলেন। পরে অম্বল, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, ক্ষুধামন্দা ও বমি বমি ভাবের মতো উপসর্গ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে পিঠ ও তলপেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে তিনি হাসপাতালে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অ্যাপেন্ডিক্সে একটি টিউমার শনাক্ত হয় এবং সেটি শরীরের অন্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা যায়।

অ্যাপেন্ডিক্সে হওয়া এই বিরল ক্যানসারকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অ্যাপেন্ডিসিয়াল কার্সিনোমা বলা হয়। এটি কোলন, পাকস্থলী বা লিভারের ক্যানসার থেকে আলাদা। রোগটি তুলনামূলক বিরল হলেও কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। সমস্যাটি আরও জটিল হয়ে ওঠে কারণ এর প্রাথমিক উপসর্গ অনেক সময় সাধারণ হজমের সমস্যার মতোই মনে হয়।

যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে

অ্যাপেন্ডিক্সের ক্যানসারের শুরুতে অনেকের কোনো স্পষ্ট উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তবে নিচের কয়েকটি সমস্যা দেখা দিতে পারে—

  • তলপেট বা পেটের নিচের অংশে ব্যথা
  • বারবার পেট ফাঁপা ও অস্বস্তি
  • গ্যাস বা অম্বল
  • অ্যাসিড রিফ্লাক্স
  • ক্ষুধা কমে যাওয়া
  • বমি বমি ভাব বা বমি
  • পিঠ কিংবা তলপেটে তীব্র ব্যথা
  • দীর্ঘদিন ধরে পেটের সমস্যা চলতে থাকা

তবে এসব উপসর্গ দেখা দিলেই অ্যাপেন্ডিক্সের ক্যানসার হয়েছে—এমনটি ধরে নেওয়ার কারণ নেই। একই ধরনের সমস্যা গ্যাস্ট্রিক, আলসার, অন্ত্রের বিভিন্ন রোগসহ অনেক সাধারণ কারণেও হতে পারে।

কেন অ্যাপেন্ডিক্সে ক্যানসার হয়?

অ্যাপেন্ডিক্সে ক্যানসার হওয়ার নির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। এ রোগের ঝুঁকি ও সম্ভাব্য কারণ নিয়ে গবেষণা চলছে।

অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার ও জাঙ্ক ফুডসহ জীবনযাপনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণায় আলোচনা থাকলেও এগুলোকে অ্যাপেন্ডিক্স ক্যানসারের সরাসরি বা নিশ্চিত কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়নি। মাইক্রোপ্লাস্টিকসহ পরিবেশগত কিছু উপাদানের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও গবেষণা চলছে। এ বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

পেটব্যথা, গ্যাস বা অম্বল হলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কোনো উপসর্গ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে, বারবার ফিরে এলে বা ক্রমেই তীব্র হলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়।

বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী পেটের সমস্যা, অস্বাভাবিক ওজন বা ক্ষুধা কমে যাওয়া, বারবার বমি, তীব্র পেটব্যথা কিংবা পিঠ ও তলপেটে নতুন ধরনের ব্যথা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

প্রয়োজনে চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষা ও বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করতে পারেন। দ্রুত রোগ শনাক্ত করা গেলে উপযুক্ত চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগও বাড়ে।