ঢাকার আদালত থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে ফেরার পথে প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে গেছেন বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলার আসামি রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ (৩০)। রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুরের বাইমাইল ময়লার বাগার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পলাতক রাজা কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ বন্দী ছিলেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।
পুলিশ ও কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৩০ জন বন্দীকে বিচারিক কার্যক্রম ও মামলার শুনানিতে হাজির করার জন্য ঢাকার আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের কার্যক্রম শেষে বিকেলে তাদের নিয়ে একটি প্রিজন ভ্যান কাশিমপুর কারাগারের উদ্দেশে রওনা হয়।
প্রিজন ভ্যানটি গাজীপুরের বাইমাইল এলাকায় পৌঁছালে রাজা শৌচাগার ব্যবহারের কথা বলে চিৎকার করতে থাকেন। একপর্যায়ে ভ্যানটি থামানো হয়। তাকে গাড়ি থেকে নামানোর পর দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নজর এড়িয়ে দ্রুত পালিয়ে যান তিনি।
মহাসড়কের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান বলেন, ঢাকার আদালত থেকে আসামিদের কাশিমপুর কারাগারে নেওয়ার পথে এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে গাড়ি থামানোর পর ওই বন্দী নামেন এবং এরপর কৌশলে পালিয়ে যান।
তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এর সিনিয়র জেল সুপার মো. নজরুল ইসলামও ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পালিয়ে যাওয়া রাজা ওরফে ‘পিচ্চি রাজা’ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একটি মামলায় কারাগারে আটক ছিলেন।
বিচারিক কার্যক্রম শেষে কারাগারে ফেরার পথে বিস্ফোরক মামলার একজন আসামির প্রিজন ভ্যান থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বন্দী পরিবহন ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা নিয়েও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারে অভিযান জোরদার করেছে পুলিশ।



