যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে তরুণদের স্বপ্ন ও আস্থার ওপর বড় আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে এর দায় সরকারকেই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। একই সঙ্গে তিনি মেধার পরিবর্তে অর্থের প্রভাবের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের সুযোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) এক বক্তব্যে আসিফ মাহমুদ বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের এই ঘটনা সরকারের ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। তার ভাষায়, মেধার প্রতিযোগিতার জায়গায় যদি টাকার খেলা চলে, তাহলে দীর্ঘদিন প্রস্তুতি নেওয়া চাকরিপ্রার্থীদের স্বপ্ন ও বিশ্বাস আবারও ভেঙে যাবে।
তিনি জানান, ২৪২টি পদের বিপরীতে তিন লাখেরও বেশি প্রার্থীর অংশগ্রহণে শনিবার সকাল ১১টায় রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। তবে পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর প্রকাশ্যে আসে।
প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তার যোগসাজশে একটি চক্র দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পরীক্ষার্থীদের ঢাকায় এনে আগে থেকেই তাদের প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে। পরে প্রার্থীপ্রতি গড়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন ও উত্তর সরবরাহের চুক্তি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি রাতভর বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষার্থীদের প্রশ্ন ও উত্তর পড়ানোর ঘটনাও সামনে এসেছে।
সংবাদে আরও দাবি করা হয়েছে, অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর আত্মীয়সহ অধিদপ্তরের একটি চক্র এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে।
আসিফ মাহমুদের বক্তব্য, সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠার পরও এবং রাতভর কথিত প্রস্তুতি চললেও প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের আগে দেশের মানুষের নজরে আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে। তাঁর মতে, এতে হয় সরকারের উচ্চপর্যায়ের কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে, অথবা প্রশাসনিক ও গোয়েন্দা নজরদারিতে বড় ধরনের দুর্বলতা ছিল।
তিনি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষার আগে তথ্য সংগ্রহ, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অনিয়ম ঠেকাতে সরকারের প্রস্তুতি ও সক্ষমতার ঘাটতি এই ঘটনায় প্রকাশ পেয়েছে।
ঘটনাটির দ্রুত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসিফ মাহমুদ প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে শুধু পরীক্ষা স্থগিত বা বাতিল করাকে যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করে দ্রুত নতুন পরীক্ষার আয়োজন এবং চাকরিপ্রার্থীদের জন্য স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগপ্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানান।
এনসিপির এই মুখপাত্র আরও বলেন, তরুণদের জন্য এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু সরকারি চাকরিতে যদি ন্যায্য প্রতিযোগিতার পরিবেশই নিশ্চিত করা না যায়, তাহলে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তব অর্থ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়।
তিনি বলেন, চাকরিপ্রার্থীরা সরকারের অনুগ্রহ চান না; তারা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতার সমান সুযোগ চান। বছরের পর বছর প্রস্তুতি নেওয়া তরুণদের স্বপ্ন যেন দুর্নীতি ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে নষ্ট না হয়, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের।



