ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকা অবস্থায় কোনো নারী অন্য পুরুষকে বিয়ে করতে পারেন না। বৈধভাবে বিবাহবিচ্ছেদ না হলে পরবর্তী বিয়ের বৈধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে কি না, তা নির্ভর করে বিয়ের প্রকৃত অবস্থা ও শরিয়তসম্মত বিধানের ওপর।
একটি ঘটনায় জানা যায়, এক নারীকে তাঁর বাবা ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ না ঘটিয়েই অন্য এক পুরুষের সঙ্গে বিয়ে দেন। দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে ২৩ বছর সংসার করার পর ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এরপর নারীটি প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে আশ্রয় চান। এ অবস্থায় তাঁদের আবার একসঙ্গে বসবাস করা শরিয়তসম্মত হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
পবিত্র কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৪ নম্বর আয়াতে বিবাহিত নারীদের বিয়ের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ রয়েছে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, আগের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল থাকলে অন্য পুরুষের সঙ্গে নতুন করে বিয়ে করা বৈধ নয়।
আলেমদের ব্যাখ্যা অনুসারে, বর্ণিত ঘটনায় প্রথম স্বামী যদি কখনো তালাক না দিয়ে থাকেন এবং শরিয়তসম্মত অন্য কোনো উপায়ে বিবাহবিচ্ছেদও না ঘটে থাকে, তাহলে প্রথম বিয়ের অবস্থা যাচাই করাই হবে মূল বিষয়। প্রথম বিবাহ বহাল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হলে দ্বিতীয় বিয়ের বৈধতা থাকবে না। এ ক্ষেত্রে দ্বিতীয় ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘ ২৩ বছর সংসার করার বিষয়টিও দ্বিতীয় বিয়েকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ করে না।
প্রথম স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও একই বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। যদি শরিয়তসম্মতভাবে প্রমাণিত হয় যে প্রথম বিবাহের বিচ্ছেদ ঘটেনি, তাহলে সেই বিবাহের অবস্থার ভিত্তিতে তাঁদের পুনরায় একসঙ্গে থাকার সুযোগ থাকতে পারে। তবে নতুন করে বিয়ে করার প্রয়োজন হবে কি না, তা নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি ও শরিয়তের বিধান বিস্তারিতভাবে যাচাই করা জরুরি।
এ ধরনের ঘটনায় নারীর সম্মতি ছাড়া বিয়ে দেওয়ার বিষয়টি, প্রথম বিয়ের শর্ত, সম্ভাব্য তালাক বা অন্য কোনো বৈধ বিচ্ছেদ এবং পরবর্তী সম্পর্কের প্রকৃত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য যাচাই করে একজন অভিজ্ঞ মুফতি বা ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।



