tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশরবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালো রং: চার আসামির রিমান্ড মঞ্জুর

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালো রং: চার আসামির রিমান্ড মঞ্জুর

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির বিপরীত পাশের দেয়ালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালো রং লাগানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ আদেশ দেন।

রিমান্ডে যাওয়া চারজন হলেন আল নূর মোহাম্মদ আয়াস (২৭), মো. সাকিবুস হাসান (১৯), মো. সুজন মিয়া (১৮) এবং মারজিয়া খন্দকার রিমি (২৬)। আদালত আয়াস ও সাকিবুস হাসানের তিন দিন করে এবং সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।

এর আগে পুলিশ চার আসামিকে আদালতে হাজির করে। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল গাফফার হিমেল প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের জন্য নির্ধারিত মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হকার উচ্ছেদ অভিযানের সময় সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির বিপরীত পাশের সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই এলাকার গণপূর্ত অধিদপ্তরের সীমানাপ্রাচীরে শিল্পকর্ম, সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক বিভিন্ন গ্রাফিতি আঁকা ছিল। গত ৯ অক্টোবর ‘সংলাপ ফোরাম’-এর সভাপতি আল নূর মোহাম্মদ আয়াস এসব গ্রাফিতি মুছে ফেলার ঘোষণা দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে দায়ের করা হয় মামলা।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিল্পকলা একাডেমির ফটকের বিপরীত পাশের দেয়ালের সামনে আয়াসসহ কয়েকজন বক্তব্য দেন। এ সময় মারজিয়া খন্দকার রিমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালো রং লাগান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, আয়াস পাকিস্তানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর কবর ও নামফলক নিয়ে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে, ভারতীয় আগ্রাসন এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারির সময়ে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে মারজিয়া খন্দকার রিমি গ্রাফিতিতে কালো রং লাগান বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

তবে মামলার এসব অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে আসামিদের দোষী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই।