পৃথিবীর ‘দ্বিতীয় চাঁদ’ খুঁজে পাওয়া — এটা কোনো সায়েন্স-ফিকশন বা সিনেমার কল্পকাহিনি নয়; বাস্তবেই আমরা আমাদের গ্রহের জন্য নতুন এক চাঁদের সঙ্গী পেয়েছি। মহাকাশ পর্যবেক্ষকরা দাবি করছেন, একাধিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে — আমাদের চাঁদের পাশাপাশি আরও একটি ছোট পৃষ্ঠ বস্তু (asteroid) পৃথিবীর কাছাকাছি ঘোরছে। এই দাবি জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের সহ সবার মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর কাছাকাছি এক বিশেষ গ্রহাণু শনাক্ত করেছেন, যার নাম 2025 PN7। এটি এখন পৃথিবীর ‘কোয়াসি-স্যাটেলাইট’ বা ‘আধা-উপগ্রহ’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে — অর্থাৎ, এক ধরনের বিরল বস্তু। ২০২৫ PN7 অত্যন্ত ছোট; গবেষকদের অনুমান অনুযায়ী তার আকার প্রায় ১৮ থেকে ৩৬ মিটার, যা একটি সাধারণ ভবনের উচ্চতার সঙ্গে তুলনীয়।
এই বস্তুটি চলতি বছরের আগস্টে প্রথমভাবে একটি জরিপে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এই ধরনের বস্তুর কক্ষপথ সাধারণ চাঁদের মতো নয় — এগুলো মূলত পৃথিবীর গ্রহকে পুরোদমে ঘোরে না। বরং এগুলো সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় আমাদের পৃথিবীর সাথেই সামান্য ভূমিকর্ষণীয় সামঞ্জস্য বজায় রাখে।
২০২৫ PN7 এর ক্ষেত্রে দেখা গেছে — এটি হয়তো ১৯৬০ সালের দিকে থেকেই পৃথিবীর সঙ্গেই সমান্তরাল পথে চলছিল। তবে এটি মূল চাঁদের মত সরাসরি পৃথিবীর চারপাশে আবদ্ধ নয়। পরিবর্তে, এটি পৃথিবীকে অনুসরণ করে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করছে, এবং বর্তমান হিসাব অনুযায়ী ২০৮৩ সাল বা তার পরবর্তী দিক পর্যন্ত এই অবস্থায় থাকতে পারে।
গবেষকরা বলছেন, ২০২৫ PN7 পৃথিবীর জন্য কোনো হুমকি নয় — কারণ এটি অনেক ছোট এবং তার কক্ষপথও তুলনায় স্থিতিশীল। তবু এটি বৈজ্ঞানিকভাবে অত্যন্ত আকর্ষণীয়, কারণ এটি আমাদের চাঁদ-পৃথিবীর কক্ষপথ, কোয়াসি-উপগ্রহ এবং নিকট-পৃথিবীর বস্তুর গতিপথ বিষয়ক নতুন ধারণা দিতে পারে।
অবশেষে, যদিও ২০২৫ PN7-কে প্রায়শই ‘দ্বিতীয় চাঁদ’ বলা হচ্ছে, আসলে এটি পূর্ণাঙ্গ চাঁদের মতো নয় — কারণ এটি পৃথিবীর পশ্চাদ্বর্তী বদ্ধ কক্ষপথে নেই।



