tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদরাজনীতিপালানোর সময় হাসিনার সহযাত্রী কারা ছিলেন?

পালানোর সময় হাসিনার সহযাত্রী কারা ছিলেন?

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, আন্দোলনের চূড়ান্ত মুহূর্তে দেশ ছাড়েন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হাজারো ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মধ্যে দুপুরে সামরিক উড়োজাহাজে করে ভারতের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। তবে সেই যাত্রায় তার সঙ্গে কারা ছিলেন, কীভাবে পরিচালিত হয়েছিল পুরো প্রক্রিয়া—এসব বিষয় নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে।

সাবেক ও বর্তমান সামরিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শেখ হাসিনাকে গণভবন থেকে সরিয়ে নেওয়ার পুরো কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত গোপনীয়। তবে এ বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যের স্বাধীন যাচাইও সম্ভব হয়নি।

গণভবন থেকে কুর্মিটোলা

৫ আগস্ট সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আন্দোলনকারীরা ঢাকার দিকে আসতে শুরু করেন। একপর্যায়ে গণভবনের দিকে জনস্রোত এগিয়ে গেলে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায়।

সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি বিবেচনায় শেখ হাসিনাকে দ্রুত গণভবন ত্যাগের পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর বিমানবাহিনীর একটি এমআই-১৭ হেলিকপ্টারে করে তাকে ও তার বোন শেখ রেহানাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

জানা যায়, ওই হেলিকপ্টারের পাইলট ছিলেন এয়ার কমোডর আব্বাস এবং কো-পাইলট ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন রায়হান কবির। পরে হেলিকপ্টারটি কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।

সামরিক বিমানে ভারত যাত্রা

সূত্র অনুযায়ী, কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে আগে থেকেই একটি সামরিক পরিবহণ বিমান (সি-১৩০) প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। সেখানে শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকী, তার স্ত্রী শাহিন সিদ্দিকী, তাদের দুই মেয়ে ও জামাতাসহ কয়েকজন অপেক্ষা করছিলেন বলে জানা যায়।

হেলিকপ্টার থেকে নেমে শেখ হাসিনা কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। এ সময় দেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে তাকে জানানো হয়।

এরপর সামরিক বিমানে করে তিনি ভারতের উদ্দেশে রওনা হন।

গোপনীয়তার মধ্যে পরিচালিত অভিযান

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, শেখ হাসিনাকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সীমিতসংখ্যক কর্মকর্তার মধ্যেই রাখা হয়েছিল। পুরো কার্যক্রমে বিমানবাহিনীর বিশেষ ফ্লাইং ইউনিটসহ কয়েকটি ইউনিট যুক্ত ছিল।

সূত্রের দাবি, রেসকিউ মিশনের প্রথম ধাপে গণভবন থেকে কুর্মিটোলা বিমানঘাঁটিতে স্থানান্তর এবং দ্বিতীয় ধাপে সামরিক বিমানে করে ভারত পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব পালন করা হয়।

শেখ হাসিনাকে ভারতে পৌঁছে দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বিমান ও ক্রুরা দেশে ফিরে আসে বলে জানা যায়। তবে এ ঘটনায় যুক্ত কর্মকর্তাদের বিষয়ে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

৫ আগস্টের এই যাত্রা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে আছে। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পথ তৈরি হয় এবং দেশের রাজনীতিতে শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়।