tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়আদালতই নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আদালতই নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের বিরুদ্ধে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হবে বলে মন্তব্য; গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের তদন্ত চলছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ৫ আগস্ট — দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, তা আদালতই নির্ধারণ করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সরকার কোনো রাজনৈতিক দলকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয়; বরং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা এক্সিকিউটিভ অর্ডারে কোনো রাজনৈতিক দলের নিষিদ্ধ ঘোষণা চাই না। তবে বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালতই নির্ধারণ করবে আওয়ামী লীগের কী হবে।”

তিনি আরও বলেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ীদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্ত কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

“যে দল গণহত্যার জন্য দায়ী, যে দল মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী—তাদের দায় কতটুকু, সেটি তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। ইনশাআল্লাহ আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে এবং বিচার নিশ্চিত করা হবে,” বলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

‘জুলাই কার’ বিতর্ক প্রসঙ্গে মন্তব্য

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি স্বৈরাচারী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আন্দোলনের পর জুলাইয়ের অর্জন কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়।

তিনি বলেন, “একটা স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পরে আমরা যদি বলি জুলাই কার, জুলাই কার—তাহলে জুলাই কারোই থাকবে না। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তি পেতে হবে।”

বিরোধী দলের নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নিতে বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, “গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। আসুন সংবিধান সংশোধন কমিটিতে একসঙ্গে বসি। জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে—আমরা সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।”

‘সংস্কার মানেই সংবিধান সংশোধন’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংস্কারের বিষয়গুলো বাস্তবায়নের জন্য সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে।

“প্রত্যেকটি অ্যামেন্ডমেন্টই একটি সংস্কার। মাঠের রাজনীতি, সংস্কার কমিশন বা জাতীয় সংস্কার পরিষদ—এসব ভিন্ন বিষয় হতে পারে; কিন্তু বাস্তবে যা প্রয়োজন তা হলো সংবিধান সংশোধন,” বলেন তিনি।

‘জুলাইয়ের পেছনে দীর্ঘ আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফল হিসেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের ধারাবাহিকতায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “জুলাই এমনিতেই হয়নি। দীর্ঘদিনের একেকটি দিনের বিন্দু বিন্দু জমে এই সিন্ধু হয়েছে। যখন কোনো আন্দোলন নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হতে দেওয়া হয় না, তখনই সহিংস ও রক্তাক্ত আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হয়।”

শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে মন্তব্য

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “৭১-এর চেতনাকে বিক্রি করতে করতে শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে আছেন। আমি অনেকবার বলেছি, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, দাফন হয়েছে দিল্লিতে।”

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, বিশেষজ্ঞ, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সম্পাদকদের মতামত নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি সংবিধান সংশোধনী প্রণয়ন করা হবে।

তিনি বলেন, “বারবার জুলাই আসে না, বারবার একাত্তর আসে না, বারবার বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হবে না। এই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জাতির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতে না পারলে এর দায় আমাদের বহন করতে হবে।”