tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদসারাদেশনির্মোহভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নির্মোহভাবে শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশের শীর্ষ মাদক কারবারিদের নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে তালিকা প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, মাদক চোরাকারবারি ও ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করতে একটি টাস্কফোর্স কাজ করবে। ওই টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে কক্সবাজার সার্কিট হাউসে জেলা মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন-সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদক চোরাচালান, বিস্তার রোধ ও নিয়ন্ত্রণ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, শীর্ষ মাদক কারবারিদের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাত করা হবে না। তথ্য-উপাত্ত ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিরপেক্ষভাবে তালিকা প্রস্তুত করা হবে। টাস্কফোর্স মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের শনাক্ত করে প্রতিবেদন দেবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সীমান্ত ও উপকূলে নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ

কক্সবাজারের সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকা দিয়ে মাদক পাচার ঠেকাতে নজরদারি আরও জোরদারের কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, মাদক পাচারে শুধু স্থলপথ নয়, নদী ও সমুদ্রপথও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব রুটে মাদক প্রবেশ ঠেকাতে নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় চলাচলকারী নৌযান এবং জেলেদের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে। মাদক পাচারের সঙ্গে কোনো ব্যক্তি বা নৌযান জড়িত কি না, তা শনাক্ত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলে ও নৌযান নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত

টেকনাফ ও উখিয়ার জেলে এবং নৌযান নিবন্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, নিবন্ধনের মাধ্যমে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় কোন ব্যক্তি মাছ ধরতে যাচ্ছেন এবং কোন নৌযান কোথায় চলাচল করছে, সে বিষয়ে একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও নৌযান শনাক্ত করা সহজ হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মিয়ানমারের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে টেকনাফ ও উখিয়া এলাকায় মাদক পাচারের ঝুঁকি বেশি। তাই স্থল সীমান্তের পাশাপাশি সমুদ্র ও নদীপথেও নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন।

টেকনাফে নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপনের উদ্যোগ

টেকনাফের পাহাড়ি এলাকায় অপহরণসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে দুটি নিরাপত্তা ক্যাম্প স্থাপনের বিষয়েও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি জানান, এ বিষয়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা চলছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সভায় মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার মাদক পরিস্থিতি, পাচারের রুট, সীমান্ত ও উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় বিজিবি, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, র‍্যাব, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা থেকে বিমানে কক্সবাজারে পৌঁছান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পরে তিনি সার্কিট হাউসে আয়োজিত মাদক প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন-সংক্রান্ত সভায় যোগ দেন।