স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, আগামী ১২ তারিখের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচনে কোনো ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা নেই এবং সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি মিলনায়তনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনে সারাদেশে এক লাখ সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর সাড়ে ৩ হাজার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রায় ৩৭ হাজার, কোস্টগার্ডের সাড়ে ৪ হাজার, পুলিশের দেড় লাখ এবং র্যাবের প্রায় ৯ হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে আনসার বাহিনী। প্রায় ৫ লাখের বেশি আনসার সদস্য আসন্ন নির্বাচনে দায়িত্বে থাকবেন। প্রায় সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। যেসব কেন্দ্রে স্থায়ী দেয়াল নেই, সেখানে অস্থায়ীভাবে বাঁশের বেড়া দিয়ে নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করা হবে।
অবৈধ অস্ত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিয়মিত অভিযানে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হচ্ছে এবং এসব নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে কোনো ধরনের ভীতি বা চাপ নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা অসদাচরণে জড়াবে, তাদের আচরণ গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে তারা নিজেরাই সংশোধিত হবে। প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, র্যাবের মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগের কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. মুহাম্মদ জিল্লুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।



