স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইনসাফ, প্রযুক্তি, মেধা ও যুবসমাজের অগ্রাধিকার এবং নারী নিরাপত্তাসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে ৪১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘জনতার ইশতেহার’ শীর্ষক এই পরিকল্পনা ও কর্মসূচি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে দলটি।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও এতে অংশ নেন।
দলীয় সূত্র জানায়, মোট ২৬টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। ইশতেহারের প্রথম ভাগে একটি বৈষম্যহীন, শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনের অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়েছে। এতে শাসনব্যবস্থা সংস্কার, কার্যকর জাতীয় সংসদ, নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার, জবাবদিহিমূলক জনপ্রশাসন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ এবং আধুনিক আইন ও বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় ভাগে আত্মনির্ভরশীল পররাষ্ট্রনীতি, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্য, শিল্প, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং যুব প্রযুক্তি নেতৃত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগ ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নারী ও শিশু নিরাপত্তা, সমাজকল্যাণ এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতিও এতে স্থান পেয়েছে।
জামায়াতে ইসলামী দাবি করেছে, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি মানুষের মতামতের প্রতিফলন ঘটিয়ে ‘জনতার ইশতেহার’ প্রণয়ন করা হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা ও ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের চাহিদা বিবেচনায় নিয়েই এই ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে বলে জানায় দলটি।
যে ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো—
১. ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’ স্লোগানের আলোকে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আপসহীন রাষ্ট্র গঠন।
২. বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
৩. যুবসমাজের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তাদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করা।
৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন।
৫. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ রাষ্ট্র বিনির্মাণ।
৬. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন।
৭. প্রযুক্তি, ম্যানুফ্যাকচারিং, কৃষি ও শিল্প খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি; সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন, মেধাভিত্তিক নিয়োগ ও সব ধরনের বৈষম্য দূরীকরণ।
৮. ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক খাত সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব, টেকসই ও স্বচ্ছ অর্থনীতি গড়ে তোলা।
৯. সমানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিসহ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।
চাইলে আমি এটিকে আরও সংক্ষিপ্ত নিউজ ভার্সন, শিরোনামভিত্তিক ফিচার, বা অনলাইন পোর্টালের জন্য SEO-ফ্রেন্ডলি আকারেও সাজিয়ে দিতে পারি।



