tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদজাতীয়নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ, সম্পর্ক জোরদারে নানা প্রস্তাব

নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ, সম্পর্ক জোরদারে নানা প্রস্তাব

পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগবিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আহসান ইকবাল বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সোমবার এক সরকারি বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ–এর প্রতিনিধিত্ব করে আহসান ইকবাল ঢাকায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি নির্বাচনে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। খবরটি প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ।

সাক্ষাতে দুই নেতা বাংলাদেশ-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। আহসান ইকবাল দক্ষিণ এশিয়ায় সংযোগ বৃদ্ধি ও অভিন্ন ভূ-অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে সার্ক–কে পুনরুজ্জীবিত করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক নানা দ্বন্দ্ব-সংঘাতের কারণে দক্ষিণ এশিয়া এখনো বিশ্বের অন্যতম কম সংযুক্ত অঞ্চল।

তিনি ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোর’ গঠনের প্রস্তাব দেন, যার মাধ্যমে একাডেমিক, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানো সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের হায়ার এডুকেশন কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে চুক্তি এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি চালুর বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি বৃত্তি বরাদ্দের কথাও উল্লেখ করেন আহসান ইকবাল; এর মধ্যে ৭৫ জন ইতোমধ্যে পাকিস্তানের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন।

দুই দেশের পরিসংখ্যান ও তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। বিশেষ করে পাকিস্তান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস, ন্যাশনাল ডাটাবেজ অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অথরিটি (নাদরা) এবং বাংলাদেশের সমপর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে তথ্যব্যবস্থা, ডিজিটাল শাসন ও সক্ষমতা উন্নয়নে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই), কুটিরশিল্প এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ—বিশেষ করে সরাসরি ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে যোগাযোগ বৃদ্ধির সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে। বৈঠকে আহসান ইকবাল ইকবাল একাডেমি পুনরুজ্জীবনের প্রস্তাব দেন এবং আগামী বছর আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল–এর ১৫০তম জন্মবার্ষিকী যৌথভাবে উদযাপনের আহ্বান জানান।

বৈঠকের শেষে উভয় নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।