দুবাই এয়ারশোতে ভারতের তৈরি যুদ্ধবিমান তেজসের বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় দেশটির প্রতিরক্ষা রপ্তানির সম্ভাবনা নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে। চার দশকের উন্নয়ন-যাত্রার পর দেশীয় প্রযুক্তির প্রতীক হিসেবে তেজসকে বৈশ্বিক বাজারে তুলে ধরতে চেয়েছিল ভারত। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবারের এ ঘটনায় পাইলট উইং কমান্ডার নমংশ সিয়াল নিহত হন। দুর্ঘটনের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মার্কিন মিচেল ইনস্টিটিউট ফর অ্যারোস্পেস স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ডগলাস এ. বার্কি বলেন, “এ ধরনের প্রদর্শনীতে দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। যেখানে দেশগুলো নিজেদের সামরিক সক্ষমতা তুলে ধরে, সেখানে একটি ক্র্যাশ ঠিক উল্টো বার্তা দেয়।” তবে তিনি মনে করেন, নেতিবাচক প্রচারের পরও তেজস প্রকল্প ভবিষ্যতে গতি ফিরে পেতে পারে।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এয়ারশো দুবাইয়ে বিভিন্ন দেশের যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। এত বড় মঞ্চে দুর্ঘটনা এখন বিরল। এর আগে ১৯৮৯ ও ১৯৯৯ সালে প্যারিস এয়ারশোতে রুশ সু–৩০ ও মিগ–২৯ বিধ্বস্ত হয়েছিল, যদিও পরে সেই মডেলগুলোর বেচাকেনা অব্যাহত ছিল। বার্কির মতে, যুদ্ধবিমান রপ্তানি অনেকটাই নির্ভর করে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার ওপর।
তেজস প্রকল্পের সূচনা ১৯৮০–এর দশকে, রাশিয়ার মিগ–২১ এর বিকল্প তৈরির লক্ষ্য নিয়ে। এর উন্নয়ন ও উৎপাদন করছে হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (এইচএএল)। ভারতীয় বিমানবাহিনীর জন্য ১৮০টি তেজস এমকে-১এ অর্ডার থাকলেও জিই এয়ারোস্পেসের ইঞ্জিন সরবরাহ–সংকটের কারণে এখনো ডেলিভারি শুরু হয়নি।



