tanaka

বীরকন্যা প্রীতিলতার ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস আজ

ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম বিপ্লবী নারী এবং শহীদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের ৯৪তম আত্মাহুতি দিবস আজ। ১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব আক্রমণে নেতৃত্ব...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকতিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ

তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ

তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদের বিরুদ্ধে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশটির জনগণ। শনিবার রাজধানী তিউনিসে হাজারো মানুষ তার প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেন। অভিযোগ উঠেছে—সাঈদের সরকার ব্যাপক হারে সরকারবিরোধী সমালোচকদের গ্রেপ্তার করছে এবং তিনি ক্রমান্বয়ে স্বৈরাচারী আচরণ প্রদর্শন করছেন। এ খবর জানিয়েছে আল জাজিরা।

বিক্ষোভ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা নানা স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। তাদের দাবি, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে। অনেকেই ‘তিনি আমাদের প্রেসিডেন্ট নন’ লেখা প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে ধরেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, এনজিও এবং বিভিন্ন মতাদর্শের মানুষ এতে অংশ নেয়—যা সাঈদবিরোধীদের মধ্যে এক বিরল ঐক্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে। সাঈদের কড়া সমালোচক ও সাবেক বিচারপতি আহমেদ সোয়াবের পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে—সাঈদ বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনী ব্যবহার করে বিরোধী রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও আইনজীবীদের লক্ষ্যবস্তু করছেন। সমালোচকদের সতর্কবার্তা, আরব বসন্ত-পরবর্তী গণতান্ত্রিক অর্জন আজ মারাত্মক ঝুঁকিতে। বিক্ষোভের সংগঠক আয়উব আমারা বলেন, “গত ১৪ বছরের সব অর্জন আজ উল্টে দেওয়া হয়েছে। তিউনিসিয়া সবার—একজনের খেয়ালে দেশ চলতে পারে না।”
জেলে থাকা বিরোধী নেতা আবদেলহামিদ জলাসির স্ত্রী মনিয়া ব্রাহিম বলেন, “অনেক তিউনিসীয় গভীর অন্যায়ের শিকার। নাগরিক হিসেবে আমার অধিকার রক্ষায় আজ রাস্তায় নেমেছি।”
এদিকে কয়েকজন বন্দি অনশন করছেন, যাদের মধ্যে আছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ জাওহার বেন এমবারেক; তিনি টানা ২০ দিন ধরে অনশন করছেন।

২০১৯ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর ২০২১ সালে সাঈদ সংসদ স্থগিত করে নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগের ক্ষমতা নিজের হাতে কেন্দ্রীভূত করেন। এরপর থেকে তিনি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ—বিশেষত বৃহত্তম ইসলামপন্থী দল আন-নাহদাকে—টার্গেট করতে শুরু করেন। দলটির নেতা ও সাবেক পার্লামেন্ট স্পিকার রাশেদ ঘান্নুশি একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়েছেন; সমর্থকেরা এগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

অধিকার লঙ্ঘন নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানায়, তিউনিসিয়ায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ওপর দমন-পীড়ন উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। ইচ্ছাকৃত গ্রেপ্তার, সম্পদ জব্দ, ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞা এবং ১৪টি এনজিওর কার্যক্রম স্থগিত—এসব ঘটনার উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের তথ্যমতে, স্বাধীন মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অভিযোগে ৫০ জনের বেশি রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা বিচার চলছে। তারা সতর্ক করেছে—সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার অপরাধ আইন ব্যবহার করে বিচারবহির্ভূত দমনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট কাইস সাঈদ স্বৈরাচারী হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি শুধু দেশকে ‘দেশদ্রোহীদের হাত’ থেকে রক্ষা করছেন।