বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, যেকোনো সময় কিংবা খুব শিগগিরই ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে।
২০২৪ সালের ১ মার্চ ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটির দায়িত্ব পান বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির। একই সময়ে আবু আফসান মো. ইয়াহিয়া সিনিয়র সহ-সভাপতি, শ্যামল মালুম সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আমান উল্লাহ আমান সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরে ওই বছরের ১৫ জুন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।
ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদ দুই বছর। সে হিসাবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর থেকেই নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে লবিং, তদবির ও শীর্ষ নেতাদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এখন বিএনপির চেয়ারম্যানের পর্যায়ে রয়েছে। যেকোনো দিন নতুন কমিটির ঘোষণা আসতে পারে। এর মধ্য দিয়ে সাংগঠনিকভাবে রেকর্ডসংখ্যক ইউনিটের কমিটি দেওয়া রাকিব-নাছির নেতৃত্বাধীন কমিটির অধ্যায়েরও অবসান ঘটতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, বিদায়ী সাক্ষাতে ছাত্রদলের সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে পেশাদারিত্ব বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বিএনপির চেয়ারম্যান ছাত্রদলের বিদায়ী নেতাদের ত্যাগ ও আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
বৈঠক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, তারেক রহমান ছাত্রদলের সাংগঠনিক গতিশীলতা ধরে রাখতে নতুন প্রজন্মের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বিদায়ী নেতাদের মূল দল বিএনপি এবং অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে পরিচিত ছাত্রদল দলটির বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপির অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতি আনা এবং বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নতুন কমিটিতে পদপ্রত্যাশী কয়েকজন নেতা মনে করেন, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে ছাত্রদলকে আরও সক্রিয় ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক সংগঠনে পরিণত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মূল দল বিএনপি এবং অন্যান্য অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনে যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সময় এসেছে বলেও তারা মনে করেন।
এদিকে, বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে ছাত্রদলের বিদায়ী নেতারা কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন বলে জানা গেছে। তারা জানিয়েছেন, দল ভবিষ্যতে রাজপথ কিংবা সাংগঠনিক যে দায়িত্বই অর্পণ করুক না কেন, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে তারা প্রস্তুত।



