দেশে কোনো ঘটনা ঘটলেই তার প্রকৃত তথ্য সামনে আসার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠছে অপতথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ছড়ানো সংঘবদ্ধ চক্র। মুহূর্তের মধ্যে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের ন্যারেটিভ। ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে রিলস, ভিডিও, মিম ও ফটোকার্ড। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের আগেই এসব কনটেন্টের বড় অংশ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। অনেকে বুঝে বা না বুঝে তা বিশ্বাসও করছেন।
ফলে প্রকৃত তথ্য সামনে আসার আগেই তৈরি হয়ে যাচ্ছে জনমত। যাচাই-বাছাইয়ের আগেই একটি নির্দিষ্ট বয়ান জায়গা করে নিচ্ছে সামাজিক ও মূলধারার আলোচনায়। পরে সেই বয়ানই অনেকের কাছে প্রতিষ্ঠিত সত্যের মতো মনে হচ্ছে। তথ্য সত্য না হলেও মানুষের মনোজগতে এর প্রভাব থেকে যাচ্ছে দীর্ঘদিন।
সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় কিশোর অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনকে ‘ইশারাত মঞ্জিল’ হিসেবে দাবি, প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর ঘিরে ভিসা নিষেধাজ্ঞার অপপ্রচার, পুরোনো ভিডিও দিয়ে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির বিভ্রান্তিকর প্রচারণা—তথ্যযুদ্ধের এমন একাধিক উদাহরণ সামনে এসেছে।
অথচ এসব ঘটনায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা অনেক সময় দৃশ্যমান হয় ঘটনার পর। ‘দেখি কী হয়’ ধরনের অপেক্ষার পর অপতথ্য ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় প্রতিক্রিয়া। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যায়। পরিস্থিতি নেতিবাচক দিকে মোড় নেওয়ার পর টকশোতে আলোচনা শুরু হয়—কেন সরকার ব্যর্থ হলো, কেন শুরুতেই অপতথ্য ঠেকানো গেল না।
অর্থাৎ ঘটনা ঘটার পর তথ্য প্রকাশ, অপতথ্য ছড়িয়ে পড়া, জনমত তৈরি এবং এরপর সরকারি প্রতিক্রিয়া—প্রতিটি ধাপেই দেখা যাচ্ছে এক ধরনের বিলম্ব ও নিষ্ক্রিয়তা। আর এই সুযোগেই তথ্যের শূন্যস্থান দখল করছে গুজব, অনুমান ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা।
দ্রুত তথ্য না এলে গুজবই শূন্যস্থান পূরণ করে
বিশেষজ্ঞদের মতে, তথ্যযুদ্ধে সরকারের অন্যতম দুর্বলতা হলো দ্রুত ও সমন্বিতভাবে নির্ভরযোগ্য তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে না পারা। কোনো ঘটনার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সংস্থা দ্রুত যাচাই করা তথ্য প্রকাশ না করলে সেই শূন্যস্থান পূরণ করে নানা ধরনের অনুমান, গুজব ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা।
ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সরকারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে দ্রুত ও সমন্বিত তথ্য সরবরাহের ঘাটতি। কোনো ঘটনার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থা যদি যাচাই করা তথ্য প্রকাশ না করে, তাহলে অনুমান, গুজব ও রাজনৈতিক ব্যাখ্যা সেই শূন্যস্থান পূরণ করে।
তার মতে, সরকারের একটি ডেডিকেটেড ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা প্রয়োজন। প্রযুক্তি ও মেশিন লার্নিংয়ের সহায়তায় সেখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য যাচাই করে সত্য-মিথ্যার ব্যাখ্যা দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি দক্ষ ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর টিম গড়ে তুলে দ্রুত সঠিক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরা জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপতথ্যের জবাব পালটা স্লোগান বা রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে দেওয়া কার্যকর নয়। প্রয়োজন দ্রুত, নির্ভুল ও প্রমাণনির্ভর তথ্য প্রকাশ। কোনো ঘটনা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়ার আগেই সরকারি যোগাযোগব্যবস্থা সক্রিয় করতে পারলে অপতথ্যের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পাশাপাশি অপতথ্য রোধের উদ্যোগ
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবার রয়েছে এবং সরকার এতে হস্তক্ষেপ করতে চায় না। তবে ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান, সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশনের বিস্তার ঠেকানো যায়।
চার ধাপে ছড়ায় একটি বয়ান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়ান তৈরি ও ছড়ানোর প্রক্রিয়া শুধু তথ্য প্রচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জনমত তৈরিরও একটি কার্যকর হাতিয়ার। অনুসন্ধানে দেখা যায়, এ প্রক্রিয়ায় একাধিক স্তর কাজ করে।
প্রথম ধাপে থাকে বয়ানের উৎস বা উৎপাদক। এর মধ্যে থাকতে পারে রাজনৈতিক কর্মী, মতাদর্শিক গোষ্ঠী কিংবা অজ্ঞাতপরিচয় কোনো অ্যাকাউন্ট। দ্বিতীয় ধাপে থাকে ‘অ্যামপ্লিফায়ার’—বড় পেজ, ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সাররা। তারা একই বক্তব্যকে বিপুলসংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছে দেয়।
তৃতীয় ধাপে রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক সেই বক্তব্যকে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ও প্রেক্ষাপট দেয়। চতুর্থ ধাপে তৈরি হয় রিলস, মিম, ফটোকার্ড ও ছোট ভিডিও। সবশেষে যাচাই ছাড়াই এসব বিষয় মূলধারার গণমাধ্যম বা টকশোতে আলোচনায় এলে তৈরি হয় ‘প্রতিষ্ঠিত সত্যের’ আবহ।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডেও সাম্প্রদায়িক বয়ান
সম্প্রতি কুমিল্লার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে হিন্দু পরিচয়ে তুলে ধরে ঘটনাটিকে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পতিত আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বেশ কয়েকটি আইডি থেকেও এমন পোস্ট ছড়ানো হয়।
তবে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য। তদন্ত অনুযায়ী, আইফোন ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়। অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সামনে আসার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিন্ন বয়ান তৈরি হয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর ঘিরেও অপপ্রচার
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের বয়ান ছড়ানো হয়।
কয়েকজন ইউটিউবার দাবি করেন, নিউইয়র্কে জাতিসংঘের নির্ধারিত এলাকার বাইরে প্রধানমন্ত্রীর যাওয়ার সুযোগ নেই এবং তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। তবে সরকারি নথি বা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসাসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার তালিকায় এর কোনো সত্যতা মেলেনি।
বরং প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের বিভিন্ন কর্মসূচি, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নৈশভোজসহ একাধিক আয়োজনে অংশ নেন। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে শুরুতেই দ্রুত ও সমন্বিতভাবে তথ্য তুলে না ধরায় ভিন্ন বয়ানটি সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।
‘ঢাকা লকডাউন’ ঘিরে পুরোনো ভিডিও
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয় বিভ্রান্তিকর বিভিন্ন ভিডিও।
ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার জানায়, ২০ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অন্তত ১১টি পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার ভিডিও নতুন ঘটনার দৃশ্য হিসেবে প্রচার করা হয়। এর মধ্যে একটি ছিল ২০২১ সালে ফেনীতে যুবলীগের একটি পুরোনো মিছিলের ভিডিও।
এ ধরনের পুরোনো ভিডিও নতুন ঘটনার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার ফলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং মুহূর্তেই তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
‘মধুর ক্যান্টিন’ নিয়েও বিভ্রান্তিকর দাবি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী মধুর ক্যান্টিন নিয়েও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বিভ্রান্তিকর প্রচারণা দেখা যায়। সেখানে মধুর ক্যান্টিনকে নবাব পরিবারের ‘ইশারাত মঞ্জিল’ হিসেবে দাবি করা হয়। তবে এ দাবির কোনো ভিত্তি নেই।
তথ্য যাচাইয়ের আগেই এমন দাবির ব্যাপক প্রচার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিহাস ও স্থাপনা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করে।
বাসে আগুনের ঘটনায় ভুয়া ফটোকার্ড
গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে তিনটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিকাণ্ডের পর বাংলাভিশনের লোগো ব্যবহার করে একটি ভুয়া ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ‘ঢাকায় বাসে আগুন দেওয়ার সময় মহানগরী জামায়াত নেতাসহ আটক ৩’—এমন দাবি করা হয়।
আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাকর্মীদের বিভিন্ন আইডি ও পেজ থেকে ফটোকার্ডটি ব্যাপকভাবে শেয়ার করা হয়। ফটোকার্ডে জামায়াত নেতাসহ তিনজনকে আটকের দাবি করা হলেও সেটি সঠিক নয়।
পরে বিভিন্ন সংগঠিত অ্যাকাউন্ট থেকে একই দাবির সঙ্গে ‘জামায়াত-বিএনপি নিজেরাই আগুন দিয়ে অন্যের নামে দায় চাপায়’—এমন ক্যাপশনও প্রচার করা হয়।
সিএনজি চালককে মারধরের ভিডিওতেও ভুল পরিচয়
সম্প্রতি একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়, ভাটারা থানার এনসিপি নেত্রী ন্যায্য ভাড়া চাওয়ায় এক সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালককে মারধর করছেন। ভিডিওতে এক তরুণীকে এক পুরুষকে মারতে দেখা যায়।
তবে রিউমর স্ক্যানারের ফ্যাক্ট-চেকে দেখা যায়, ঘটনাটি ন্যায্য ভাড়া নিয়ে বিরোধের কারণে ঘটেনি। অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করেই ওই নারী চালককে মারধর করেছিলেন। একই সঙ্গে ওই নারী সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলটিরও কেউ নন।
ছয় মাসে ৩ হাজার ২১০টি অপতথ্য শনাক্ত
রিউমর স্ক্যানারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশে ৩ হাজার ২১০টি অপতথ্য শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছিলেন সবচেয়ে বেশি টার্গেট হওয়া ব্যক্তি।
ডিসমিসল্যাবের বিশ্লেষণ বলছে, এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত যাচাই করা ১ হাজার ২৬৫টি অপতথ্যের মধ্যে ৫৭ শতাংশই ছিল রাজনৈতিক। একই সময়ে ধর্মীয় অপতথ্যের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৯ শতাংশ এবং আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত অপতথ্য ৮ দশমিক ২ শতাংশে ওঠে।
গুজব ও প্রোপাগান্ডা বিশেষজ্ঞ ইমতিয়াজ মির্জা বলেন, ঘটনা ঘটার প্রথম কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তথ্য না দিলে ব্যবহারকারীরাই ঘটনার ব্যাখ্যা তৈরি করে ফেলেন।
তার ভাষায়, অসত্য তথ্যের জবাব হওয়া উচিত তথ্য ও যুক্তি দিয়ে; মানুষের কণ্ঠ বন্ধ করে নয়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রেখেই এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে সেই স্বাধীনতার নামে মিথ্যা তথ্য, ঘৃণা বা সহিংসতার উসকানি সমাজকে বিভক্ত করতে না পারে।
ঢাকায় অফিস স্থাপনে আগ্রহী মেটা
অপতথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান ঠেকানোর ক্ষেত্রে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর বাংলাদেশে সরাসরি অফিস না থাকা। তবে সম্প্রতি মেটার—ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান—সঙ্গে সরকারের একটি বৈঠকে এ বিষয়ে অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানান, ডিজিটাল হয়রানি ও অপতথ্য ঠেকাতে ঢাকায় অফিস স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে মেটা। বৈঠকে বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা আইন ও ডিজিটাল হয়রানির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকায় মেটার অফিস থাকলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে কোনো তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজন হলে আপত্তিকর কনটেন্টের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
সব মিলিয়ে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্যের গতি এখন বাস্তব ঘটনার গতিকেও অনেক সময় ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ফলে কোনো ঘটনা ঘটার পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা সরকারি নীরবতা থাকলে সেই শূন্যস্থান অন্য কেউ পূরণ করছে—সেটি সত্য তথ্য দিয়ে হোক বা গুজব দিয়ে। তাই তথ্যযুদ্ধে কার্যকর থাকতে হলে সরকারের জন্য দ্রুত প্রতিক্রিয়া, সমন্বিত যোগাযোগ, প্রযুক্তিনির্ভর ফ্যাক্ট-চেকিং এবং প্রমাণনির্ভর তথ্য প্রকাশের সক্ষমতা গড়ে তোলা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।



