tanaka

ঢাকার কবরস্থান: সীমিত জায়গা, সংরক্ষণ ব্যয় ও ব্যবস্থাপনার নানা প্রশ্ন

পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ‘কবর’ কবিতায় প্রিয়জনের কবরকে ঘিরে স্মৃতি ও আবেগের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা বাংলা সাহিত্যে বহুল পরিচিত— ‘এই খানে তোর দাদির কবর, ডালিম...
প্রচ্ছদরাজধানীঢাকার কবরস্থান: সীমিত জায়গা, সংরক্ষণ ব্যয় ও ব্যবস্থাপনার নানা প্রশ্ন

ঢাকার কবরস্থান: সীমিত জায়গা, সংরক্ষণ ব্যয় ও ব্যবস্থাপনার নানা প্রশ্ন

পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের ‘কবর’ কবিতায় প্রিয়জনের কবরকে ঘিরে স্মৃতি ও আবেগের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা বাংলা সাহিত্যে বহুল পরিচিত—

‘এই খানে তোর দাদির কবর, ডালিম গাছের তলে,
তিরিশ বছর ভিজায়ে রেখেছি, দুই নয়নের জলে।’

প্রিয়জনের কবর অনেক পরিবারের কাছেই স্মৃতি ও আবেগের সঙ্গে যুক্ত। তবে রাজধানী ঢাকায় সীমিত কবরস্থান, জনসংখ্যার চাপ, কবর পুনর্ব্যবহার এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের ব্যয়—এসব কারণে কবর ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

সিটি করপোরেশনের নীতিমালা অনুযায়ী, সাধারণ কবর নির্দিষ্ট সময় ব্যবহারের পর পুনর্ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট মেয়াদে কবর সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে একই শহরে সাধারণ কবরের ব্যবহারকাল এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষিত কবরের ব্যবস্থাপনায় পার্থক্য দেখা যায়।

সাধারণ কবরের ব্যবহারকাল

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ‘কবরস্থানগুলোর নীতিমালা-২০২২’ অনুযায়ী, সাধারণ কবরের ক্ষেত্রে দুই বছর পর্যন্ত জায়গাটি ব্যবহারের বিধান রয়েছে। জায়গার সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ের পর একই স্থানে নতুন মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

তবে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে কিছু ক্ষেত্রে জানা গেছে, নিয়মিত কবর দেখতে না গেলে বা পরিচর্যা না করলে নির্ধারিত সময়ের আগেই কবরের চিহ্ন মুছে ফেলার ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের অভিযোগের ব্যাপারে কবরস্থানভেদে পরিস্থিতি আলাদা কি না, সে বিষয়ে সিটি করপোরেশনের বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।

সাধারণ কবর পুনর্ব্যবহারের বিষয়টি মূলত ঢাকার কবরস্থানে জায়গার সীমাবদ্ধতার সঙ্গে সম্পর্কিত। সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে সরকারি কবরস্থান রয়েছে ১৩টি। এসব কবরস্থানের মোট জমির পরিমাণ ২৫৩ একর এবং দাফন সক্ষমতা দুই লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৮ জনের।

এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় রয়েছে ১৯২ একর এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় ৬১ একর কবরস্থানের জমি।

দাফনের খরচের বাইরে পরিচর্যার ব্যয়

২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পুরান ঢাকার সূত্রাপুরের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম মারা গেলে তাঁকে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর পরিবারের একজন সদস্য আহাদুজ্জামান জানান, সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত দাফন ফি ছিল এক হাজার টাকা। তবে দাফন সম্পন্ন করতে তাঁদের মোট ব্যয় হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা।

পরিবারটির ভাষ্য অনুযায়ী, কাঠের নামফলকের জন্য ৩০০ টাকা এবং কবর সাজানো ও সাময়িক সংরক্ষণের জন্য আরো এক হাজার টাকা নেওয়া হয়। তাঁদের আরো বলা হয়েছিল, কবরটি অক্ষত রাখতে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা দিতে হবে।

পরিবারটির দাবি, মাসিক অর্থ দেওয়া বন্ধ করলে কবরের মাটি সমান করে সেখানে নতুন মরদেহ দাফন করা হতে পারে—এমন কথাও তাঁদের জানানো হয়েছিল।

এসব অর্থ নেওয়া সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক ফি কি না, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ফি এবং ব্যক্তিগতভাবে নেওয়া অর্থ—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্যও স্পষ্ট করা জরুরি।

কবর পরিচর্যায় অনানুষ্ঠানিক কর্মী

সিটি করপোরেশন নিয়ন্ত্রিত কবরস্থানগুলোতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও খাটোলি কাজ করেন। তবে  অনুসন্ধানে কোনো কোনো কবরস্থানে সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কর্মীদের বাইরে আরো ব্যক্তির কবর পরিচর্যা ও দাফন-সংক্রান্ত কাজে যুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।

কবরের চারপাশে বাঁশের বেড়া দেওয়া, কবর সাজানো, ঘাস লাগানো এবং পানি দেওয়ার মতো কাজের জন্য তাঁদের কেউ কেউ অর্থ নেন বলে স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এই অর্থের পরিমাণ দুই হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত এবং নিয়মিত পরিচর্যার জন্য মাসে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বলে অভিযোগ রয়েছে।

রায়েরবাজার কবরস্থানে দীর্ঘদিন কাজ করা একজন কর্মী স্বজনদের কাছ থেকে এ ধরনের অর্থ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, এই অর্থের একটি অংশ সিটি করপোরেশনের কিছু অসাধু কর্মীর কাছে যায়। তবে এ দাবির স্বাধীন ও নথিভিত্তিক যাচাই করা যায়নি।

নীতিমালায় স্থায়ী বেড়া দেওয়ার বিধান নেই

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কবরস্থানগুলোর নীতিমালায় সাধারণ এলাকার কবরের ওপর বাঁশ, ইট, লোহার গ্রিল বা অন্য কোনো উপায়ে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি কিংবা বেড়া দেওয়ার সুযোগ নেই।

ফলে কোনো কবরের চারপাশে এ ধরনের কাঠামো তৈরি করতে অর্থ নেওয়া হলে তা সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত ফি কি না, সেটি পৃথকভাবে যাচাইয়ের বিষয়।

দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণে নির্ধারিত ফি

সাধারণ কবরের পাশাপাশি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য কবর সংরক্ষণের ব্যবস্থাও রয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নীতিমালা অনুযায়ী, বনানী কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য কবর সংরক্ষণের ফি এক কোটি টাকা এবং ২৫ বছরের জন্য দেড় কোটি টাকা।

উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য ৭৫ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য এক কোটি টাকা। উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে যথাক্রমে ৫০ লাখ ও ৭৫ লাখ টাকা এবং উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরে ৩০ লাখ ও ৫০ লাখ টাকা।

মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য ২০ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য ৩০ লাখ টাকা। রায়েরবাজার বধ্যভূমিসংলগ্ন কবরস্থানে এই হার যথাক্রমে ১০ লাখ ও ১৫ লাখ টাকা।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কবরস্থানগুলোতেও স্থায়ীভাবে জমি কেনার সুযোগ নেই। সেখানে মেয়াদ অনুযায়ী কবর সংরক্ষণের জন্য ১০ বছরে পাঁচ লাখ, ১৫ বছরে ১০ লাখ, ২০ বছরে ১৫ লাখ এবং ২৫ বছরে ২০ লাখ টাকা দেওয়ার বিধান রয়েছে।

বনানী কবরস্থানে ব্যয়ের প্রশ্ন

নীতিমালায় নির্ধারিত ফি ছাড়াও বনানী কবরস্থানে বাস্তবে সংরক্ষণ ব্যয় আরো বেশি হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে তথ্য পাওয়া গেছে। সাড়ে চার কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয়ের তথ্যও পাওয়া গেছে। তবে এই অঙ্কের ভিত্তি, এর মধ্যে কোন কোন খাত অন্তর্ভুক্ত এবং এটি সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত ফি কি না—তা নথির ভিত্তিতে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।

বনানী কবরস্থানে একই কবরে পরিবারের অন্য সদস্যকে পুনর্দাফনের জন্য ৫০ হাজার ৫০০ টাকা ফি নির্ধারিত রয়েছে। অন্যান্য কবরস্থানে এই ফি ৩০ হাজার ৫০০ টাকা।

নীতিমালা অনুযায়ী পুনর্দাফনের সুযোগ মৃত ব্যক্তির ছেলে-মেয়ে, স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা এবং ভাই-বোনের মধ্যে সীমিত।

সংরক্ষণ ব্যয়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন

পুরনো নথি অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালে বনানী ও উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে স্থায়ীভাবে কবরের জায়গা কেনার জন্য এক লাখ ২০ হাজার টাকা প্রয়োজন হতো। মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে জায়গা পাওয়া যেত ২৫ হাজার থেকে ৩৫ হাজার টাকায়।

২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী কবরের জায়গা কেনা বন্ধ ছিল। ২০০৮ সাল থেকে মেয়াদভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু হয়।

২০২৩ সালে ফি বাড়ানোর আগে বনানী কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য সর্বোচ্চ ফি ছিল ২৪ লাখ এবং ২৫ বছরের জন্য ৪৫ লাখ টাকা। পরবর্তী সময়ে তা বাড়িয়ে যথাক্রমে এক কোটি ও দেড় কোটি টাকা করা হয়।

এই পরিবর্তনকে ডিএনসিসি দীর্ঘমেয়াদি কবর সংরক্ষণ নিরুৎসাহিত করার নীতির অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।

ডিএনসিসির বক্তব্য

ডিএনসিসির প্রধান সমাজকল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান বলেন, সাধারণভাবে কবর দেওয়ার খরচ বাড়ানো হয়নি। দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ফি বাড়ানো হয়েছে।

তাঁর ভাষ্য, ‘যাঁরা দীর্ঘ মেয়াদে কবর সংরক্ষণ করতে চান, তাঁদের নিরুৎসাহিত করতেই সংরক্ষণ ফি বাড়ানো হয়েছে। কারণ সবাই যদি কবর সংরক্ষণ করতে চান, তাহলে ঢাকায় কবরের জায়গা পাওয়া যাবে না।’

তিনি আরো জানান, সাধারণ কবর দেওয়ার ফি ও খরচ নগরবাসীর সামর্থ্যের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কর্মকর্তা ২০২৩ সালে করা নীতিমালার কথা বললেও নথিটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কবরস্থানগুলোর নীতিমালা-২০২২’। নীতিমালাটি ২০২৩ সালের ১৮ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়।

ঢাকায় কবরস্থানের সীমাবদ্ধতা

বনানী কবরস্থানে বর্তমানে নয় হাজারের বেশি কবর রয়েছে। সেখানে নতুন দাফনের জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ কবর পুনর্ব্যবহার করা হয়।

সংরক্ষিত কবরেও পরিবারের একাধিক সদস্যকে দাফনের সুযোগ রয়েছে। কোনো কোনো কবরে একাধিক সদস্যকে দাফনের নজির পাওয়া গেছে; কোথাও কোথাও একই কবরে সাতজন পর্যন্ত দাফনের তথ্যও রয়েছে।

ডিএনসিসির বক্তব্য অনুযায়ী, একসময় জীবিত অবস্থায় কবরের জায়গা সংরক্ষণ বা কিনে রাখার সুযোগ থাকায় কবরস্থানে জায়গার চাপ বেড়েছিল। বর্তমানে বনানীতে অগ্রিম কবর সংরক্ষণের সুযোগ নেই।

ঢাকার বাইরে দাফনের সিদ্ধান্ত

কবর সংরক্ষণের ব্যয় বহন করতে না পারার কারণে কেউ কেউ ঢাকার পরিবর্তে নিজ এলাকার কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত নেন।

উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা আবু রায়হান জানান, তিন বছর আগে তাঁর খালু আব্দুল আলী মারা গেলে ঢাকায় দাফনের কথা ভাবা হয়েছিল। ঢাকায় পরিবারের বেশির ভাগ সদস্য বসবাস করায় সেখানে দাফন করলে কবর জিয়ারত সহজ হতো। তবে কবর সংরক্ষণের ব্যয় বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত মরদেহ কুষ্টিয়ায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়।

এটি একটি পরিবারের অভিজ্ঞতা। রাজধানীর কবর সংরক্ষণ ব্যয় কতটা পরিবারগুলোর দাফনের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে, তা নির্ধারণে আরো বিস্তৃত তথ্য প্রয়োজন।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা

নীতিমালায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আলাদা সুবিধার কথা বলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত তালিকায় নাম থাকা এবং যথাযথ সনদ দাখিলের পর কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রথম ১০ বছর বিনা মূল্যে কবর সংরক্ষণ করা যায়।

মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য প্রায় দেড় একর জায়গা সংরক্ষিত রয়েছে।

পুরনো কবর নিয়ে বিরোধ

কবরের জায়গা নিয়ে বিরোধ ঢাকায় নতুন নয়। ২০০৬ সালে আজিমপুর কবরস্থানের শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী কবর সরিয়ে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ রিট করেন।

পরবর্তী সময়ে হাইকোর্ট কবর ভেঙে সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত বেআইনি ঘোষণা করেন। এ-সংক্রান্ত রুলও পরে অ্যাবসোলিউট হয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে কবরস্থান ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে ডিএনসিসির তৎকালীন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের বিরুদ্ধেও দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান করেছে।

তবে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তদন্ত বা আদালতের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সামনে যে প্রশ্নগুলো

ঢাকার কবরস্থান ব্যবস্থাপনায় কয়েকটি বিষয় একই সঙ্গে সামনে আসে—কবরস্থানের সীমিত জমি, ক্রমবর্ধমান দাফনের চাহিদা, সাধারণ কবর পুনর্ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা, দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের উচ্চ ব্যয় এবং কবর পরিচর্যায় সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ।

সিটি করপোরেশনের দৃষ্টিতে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ সীমিত রাখার অন্যতম কারণ হলো কবরস্থানের জমির সংকট। অন্যদিকে পরিবারগুলোর কাছে প্রিয়জনের কবর সংরক্ষণ আবেগ ও স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত। এই দুই বাস্তবতার মধ্যে সমন্বয় করাই কবরস্থান ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ।

ঢাকার কবরস্থান ব্যবস্থাপনা নিয়ে তাই শুধু কবর সংরক্ষণের ব্যয় নয়, নির্ধারিত ফি, অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেন, কবর পুনর্ব্যবহারের সময়সীমা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় কবরস্থানের জমি—এসব বিষয়ও স্বচ্ছ তথ্যের ভিত্তিতে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।