মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পোস্ট ঘিরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে সোমবার (১১ মে) এশিয়ার বাজারে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম এক লাফে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৯৫ ডলারে পৌঁছেছে।
সোমবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দামও ৪ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়লে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে।
এর মধ্যেই যুদ্ধবিরতি নিয়ে চলমান আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘একপেশে’ বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান। দেশটির দাবি, ওয়াশিংটনের প্রস্তাব আঞ্চলিক বাস্তবতা ও ইরানের স্বার্থকে উপেক্ষা করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দুই মাস ধরে চলা সংঘাত বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব রোববার পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠিয়েছে তেহরান। তবে ট্রাম্প সেই প্রস্তাবকে ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Esmaeil Baghaei বলেন, যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানের প্রস্তাব ছিল ‘বৈধ’, ‘দায়িত্বশীল’ ও ‘উদার’।
ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশি ব্যাংকে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।
বাকেই বলেন, “আমরা কোনো অতিরিক্ত সুবিধা চাইনি। আমাদের দাবিগুলো পুরোপুরি বৈধ। যুদ্ধের অবসান, মার্কিন অবরোধ ও জলদস্যুতামূলক আচরণের সমাপ্তি এবং বিদেশে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা ইরানি সম্পদ ফেরত দেওয়াই আমাদের মূল দাবি।”
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও ইরানের প্রস্তাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এর আগে রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, “আমি ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের জবাব পড়েছি। এটি আমার পছন্দ হয়নি। এ প্রস্তাব পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য!”



