tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদজাতীয়সহিংসতার ছায়ায় নির্বাচন, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা- এইচআরএসএস ও আসকের পর্যালোচনা

সহিংসতার ছায়ায় নির্বাচন, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা- এইচআরএসএস ও আসকের পর্যালোচনা

নির্বাচনপূর্ব সহিংসতায় ১৬২ ঘটনায় ৫ জন নিহত, আহত প্রায় এক হাজার
১৭ মাসে ১,৪১১ রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ১৯৫
‘মব’ সহিংসতায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৫৯ জন

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ও হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছে মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থাটির মতে, সরকারের কাছে মানবাধিকার পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়নের প্রত্যাশা থাকলেও পূর্বের মানবাধিকার লঙ্ঘণের ধারা অব্যাহত রয়েছে, পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে নতুন কিছু প্রবণতা।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা পর্যালোচনা করে এইচআরএসএস জানায়, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও নারীদের ওপর সহিংসতার ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশকে কণ্টকাকীর্ণ করে তুলেছে।

বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম মিলনায়তনে ‘জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী মানবাধিকার পরিস্থিতি ও প্রাক-নির্বাচনী সহিংসতা প্রতিবেদন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে অন্তর্বর্তী সরকারের ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং নির্বাচনপূর্ব সহিংসতার চিত্র উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই মনোনয়নপ্রত্যাশী, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা বেড়েছে। দলীয় ও অন্তঃকোন্দলের কারণে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি নারীদের ওপর হামলা ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড নির্বাচনী পরিবেশকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকত্বসংক্রান্ত অভিযোগ এবং আইনি জটিলতা সত্ত্বেও প্রার্থীদের অংশগ্রহণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

এইচআরএসএসের তথ্য অনুযায়ী, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনকেন্দ্রিক অন্তত ১৬২টি সহিংসতার ঘটনায় ৫ জন নিহত এবং ৯৭০ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তঃকোন্দলের ৪০টি ঘটনায় ৩ জন নিহত ও ৫৬০ জন আহত হন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ৫০টি ঘটনায় ১ জন নিহত ও ৫৬০ জন আহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও প্রচারণায় নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে এর সঙ্গে নারী নির্যাতন, হামলা, হেনস্তা ও লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন নারী এ ধরনের সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

এইচআরএসএস জানায়, গত ১৭ মাসে গুমের ঘটনা না ঘটলেও রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, গণপিটুনি, হেফাজতে ও নির্যাতনে মৃত্যু, নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ, সীমান্ত হত্যা, মাজারে হামলা ও ভাঙচুর, সাংবাদিক হত্যা ও নিপীড়নের ঘটনা বেড়েছে। মানবাধিকার উন্নয়নে সরকারের কিছু উদ্যোগ থাকলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ১,৪১১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ১৯৫ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২১ জন বিএনপির। আহত হয়েছেন অন্তত ১১,২২৯ জন। একই সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৪১৩টি ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৫৯ জন। এছাড়া ৪২৭টি ঘটনায় ৮৩৪ জন সাংবাদিক হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন; এর মধ্যে ৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে এইচআরএসএসের উপদেষ্টা নুর খান লিটন বলেন, “দেশের মানুষ এখনো নির্বাচন নিয়ে নিশ্চিত হতে পারছে না। সহিংসতা হবে না—এমন পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি। গুমের ঘটনা না থাকলেও কাঙ্ক্ষিত মানবাধিকার পরিস্থিতি আমরা দেখতে পাইনি। কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. মনিরুজ্জামানসহ অন্যান্যরা।

ক্রমশ সহিংস নির্বাচন: আসকের পর্যবেক্ষণ

এদিকে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিস কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, গত বছরের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে রাজনৈতিক সহিংসতার ৯৬টি ঘটনায় ১৫ জন নিহত ও ৮৮৪ জন আহত হয়েছেন। জানুয়ারির প্রথম ১০ দিনে ৮টি ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হন; পরবর্তী ১০ দিনে ১৮টি ঘটনায় ২ জন নিহত ও ১৭৬ জন আহত হন; আর মাসের শেষ ১০ দিনে ৪৯টি ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ৪১৪ জন আহত হন।

আসকের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ডিসেম্বর ১১ জন এবং জানুয়ারিতে ১৬ জন সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক মাঠ ও নির্বাচনী পরিবেশ তত বেশি সহিংস হয়ে উঠছে বলে উদ্বেগ জানিয়ে আসক সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম ও সহনশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।