tanaka

৮০ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের কাছে চিঠি

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হচ্ছে। এর জেরে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় দেশের ৮০টি...
প্রচ্ছদটপ নিউজজলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি তহবিল দ্রুত বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি তহবিল দ্রুত বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য গঠিত ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড’ বা ক্ষয়ক্ষতি তহবিল দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বাস্তবায়নের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) চীনের ডালিয়ান আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘সামার দাভোস’ সম্মেলনের ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন অ্যা শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক অধিবেশনে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অধিবেশনের আগে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলোইস জভিংগি।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি হস্তান্তর, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং সম্মিলিত অঙ্গীকারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে জলবায়ু বিষয়ক প্রতিশ্রুতিকে বাস্তব কর্মকাণ্ডে এবং অঙ্গীকারকে দৃশ্যমান ফলাফলে রূপ দেওয়ার। বিশ্বকে একটি নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে নিতে কার্যকর পদক্ষেপের বিকল্প নেই।”

তারেক রহমান আশা প্রকাশ করে বলেন, আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলন জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং বাংলাদেশও এ ক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত রয়েছে।

জলবায়ু কার্যক্রমকে ব্যয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “জলবায়ু উদ্যোগ সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার অন্যতম মাধ্যম। আমরা সবাই মিলে একটি সবুজ, নিরাপদ, টেকসই ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গড়ে তুলতে পারি।”

তিনি বলেন, কোনো দেশ এককভাবে জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন করতে পারে না। এজন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থায়ন এবং দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা। কপ-৩১ ও কপ-৩২ সম্মেলনকে সামনে রেখে তিনি তিনটি অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন।

প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতির পর্যায় থেকে বাস্তবায়নের পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে এবং সহায়তা হতে হবে সহজলভ্য ও পূর্বানুমানযোগ্য।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজ, সাশ্রয়ী এবং প্রয়োজনভিত্তিক করতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বৃদ্ধির পথ সুগম করতে হবে। এ লক্ষ্যে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডের (জিসিএফ) কার্যকারিতা ও সংহতকরণ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তৃতীয়ত, তিনি বলেন, প্রশমন কার্যক্রমের পাশাপাশি অভিযোজন ব্যবস্থাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য অভিযোজন কোনো বিকল্প নয়, বরং টিকে থাকার পূর্বশর্ত। তিনি উল্লেখ করেন, ইউএনসিটিএডির মূল্যায়ন অনুযায়ী ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সম্মিলিত পরিমাণগত লক্ষ্য (এনসিকিউজি) উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিযোজন ও প্রশমন চাহিদা পূরণে যথেষ্ট নয়।

বাংলাদেশের সবুজ শিল্পায়নের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সবুজ উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড (LEED) সনদপ্রাপ্ত কারখানার মধ্যে ৬৯টিই বাংলাদেশের, যা আমাদের টেকসই শিল্প উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন।”

উল্লেখ্য, ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত চীনের ডালিয়ান শহরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্রীষ্মকালীন দাভোস সম্মেলন। ‘এন্টারপ্রেনারশিপ ফর অ্যা নিউ এরা’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ সম্মেলনে বৈশ্বিক অর্থনীতি, শিল্পখাতের রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উদীয়মান প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান এবং জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।