জর্ডান সরকার দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য সাধারণ ক্ষমা (অ্যামনেস্টি) ঘোষণা করেছে। এর আওতায় অবৈধভাবে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়াই দেশে ফিরতে পারবেন। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে জর্ডানে বৈধভাবে থেকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগও পাবেন তারা।
বুধবার (১৭ জুন) জর্ডানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাধারণ ক্ষমার আওতায় প্রবাসীরা জরিমানা ছাড়াই নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন। এছাড়া নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে কর্মস্থল পরিবর্তন, নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ এবং জর্ডানে অবস্থান অব্যাহত রাখার সুযোগও থাকবে। কিছু ক্ষেত্রে গৃহকর্মীরাও নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করার অনুমতি পাবেন। পাশাপাশি ভ্রমণ ভিসায় জর্ডানে প্রবেশ করা ব্যক্তিরাও ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সাধারণ ক্ষমার আওতায় কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে এবং এর শর্তাবলি কী হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা চলতি সপ্তাহের মধ্যেই প্রকাশ করবে জর্ডান সরকার।
এদিকে প্রবাসীদের দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের বিষয়ে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। দূতাবাস জানিয়েছে, সাধারণ ক্ষমা সংক্রান্ত যেকোনো সুবিধা গ্রহণের ক্ষেত্রে সরাসরি দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, যাতে কেউ প্রতারণার শিকার না হন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই ঘোষণা জর্ডানে অবস্থানরত হাজারো বাংলাদেশির জন্য স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। বিশেষ করে যেসব শ্রমিক নানা কারণে বৈধ কাগজপত্রহীন অবস্থায় রয়েছেন, তারা এ সুযোগ কাজে লাগাতে পারবেন।
বর্তমানে জর্ডানে প্রায় ৬৫ হাজার থেকে ৯০ হাজার বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারী কর্মী দেশটির পোশাক ও গার্মেন্টস খাতে কাজ করছেন। বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বিওইএসএল)-এর তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের পোশাক শিল্পে প্রায় ৩০ হাজার বাংলাদেশি নারী কর্মরত আছেন।



