tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশনির্বাচন কর্মকর্তার কাছে ঘুষের ৩ লাখ টাকা ফেরত চাইলেন গণঅধিকার পরিষদ নেতা

নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে ঘুষের ৩ লাখ টাকা ফেরত চাইলেন গণঅধিকার পরিষদ নেতা

পটুয়াখালীর দশমিনায় উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে ঢুকে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাসুদ হাওলাদারের কাছে ঘুষ হিসেবে দেওয়া তিন লাখ টাকা ফেরত চেয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের এক নেতা। বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

এদিকে অভিযুক্ত নির্বাচন কর্মকর্তাকে রক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় কয়েকটি মহল তদবির করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৫৫ নম্বর দক্ষিণ খারিজা বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি ভোটকেন্দ্র। ওই ভোটকেন্দ্রের স্থান পরিবর্তন করে একই ওয়ার্ডের খারিজা বেতাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্থানান্তরের আবেদন করেন এমএ সজীব আহমেদ নামে এক ব্যক্তি।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়ন গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক ও একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হারুন ব্যাপারী বুধবার দুপুরে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাসুদ হাওলাদারের সামনে টাকা দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

হারুন ব্যাপারীর দাবি, ভোটকেন্দ্র পরিবর্তনের আবেদন করার পর তিনি নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে আগের স্থানেই কেন্দ্র বহাল রাখার অনুরোধ জানান। এ সময় নির্বাচন কর্মকর্তা আগের স্থানেই কেন্দ্র বহাল রাখার আশ্বাস দেন। পরে একদিন ফোন করে কেন্দ্র বহাল রাখার জন্য তাঁর কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন।

ভিডিওতে হারুন ব্যাপারী আরও দাবি করেন, কালাম পঞ্চায়েত নামে গণঅধিকার পরিষদের আরেক নেতার মাধ্যমে নির্বাচন কর্মকর্তাকে কিছু টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা তিনি নিজেই নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে পরিশোধ করেন।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর প্রকাশিত খসড়া তালিকা এবং ২৭ অক্টোবরের চূড়ান্ত তালিকায় আগের স্থানেই ভোটকেন্দ্র বহাল রাখা হয়। তবে আবেদনকারী এমএ সজীব আহমেদ নির্বাচন কমিশনে আপিল করলে ২ নভেম্বর আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তাঁর প্রস্তাবিত স্থানে ভোটকেন্দ্র পুনর্নির্ধারণ করা হয়।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হারুন ব্যাপারী দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান এবং দেওয়া টাকা ফেরত চান। ভাইরাল ভিডিওতে এ সময় নির্বাচন কর্মকর্তাকে নীরব থাকতে দেখা যায়।

ভিডিওতে কালাম পঞ্চায়েতকেও বলতে শোনা যায়, তিনি নিজের হাতে নির্বাচন কর্মকর্তাকে যে টাকা দিয়েছিলেন, তা আগেই ফেরত নিয়ে নিয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. মাসুদ হাওলাদার। তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্র বহাল রাখা বা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার তাঁর নয়, এটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিষয়। অভিযোগকারীদের বক্তব্য অসত্য। তিনি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেননি। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বৃহস্পতিবার সকালে দশমিনা উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় পরিদর্শন করেন পটুয়াখালী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ওহিদুজ্জামান মুন্সী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হবে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।