tanaka
প্রচ্ছদলাইফস্টাইলজন্মগতভাবে জরায়ু না থাকলেও সন্তান ধারণের নতুন সম্ভাবনা

জন্মগতভাবে জরায়ু না থাকলেও সন্তান ধারণের নতুন সম্ভাবনা

মাতৃত্বের স্বপ্ন অনেক নারীর কাছে জীবনের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু জন্মগতভাবে জরায়ু না থাকা, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জরায়ু অপসারণ কিংবা জরায়ু গর্ভধারণের উপযোগী না হওয়ায় অনেক নারী সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। তাদের জন্য নতুন আশার সম্ভাবনা তৈরি করেছে জরায়ু প্রতিস্থাপন।

যুক্তরাষ্ট্রের পেন মেডিসিনের নতুন এক গবেষণায় জরায়ু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সন্তানধারণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের চারটি কেন্দ্রে হওয়া ৬০টি জরায়ু প্রতিস্থাপনের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি করা হয়েছে। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে Obstetrics & Gynecology জার্নালে।

গবেষকদের হিসাবে, জরায়ু প্রতিস্থাপন করা নারীদের প্রায় ৭০ শতাংশ অন্তত একটি জীবিত সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

কেন প্রয়োজন হয় জরায়ু প্রতিস্থাপন?

গবেষণায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ নারীর জন্মগতভাবেই জরায়ু ছিল না, অথবা জরায়ু এমন অবস্থায় ছিল যেখানে গর্ভধারণ সম্ভব ছিল না। কয়েকজনের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জরায়ু অপসারণ করা হয়েছিল। আবার কারও জরায়ু গর্ভধারণের জন্য উপযুক্ত ছিল না।

কতটা সফল এই পদ্ধতি?

৬০টি জরায়ু প্রতিস্থাপনের মধ্যে ৫১টি প্রতিস্থাপিত জরায়ু অস্ত্রোপচারের পর গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৩০ দিন পার করতে সক্ষম হয়।

এই নারীদের মধ্যে ৮২ শতাংশের বেশি অন্তত একটি জীবিত সন্তানের জন্ম দিয়েছেন অথবা ২০ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে গর্ভবতী ছিলেন। এমনও হয়েছে, প্রতিস্থাপিত জরায়ুর মাধ্যমে একই নারী একাধিক সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। গবেষণায় নয়জন নারী দুটি করে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

শিশুদের স্বাস্থ্যও পর্যবেক্ষণে

শুধু সন্তান জন্ম দেওয়ার সাফল্য নয়, জন্মের পর শিশুদের স্বাস্থ্যের বিষয়টিও পর্যবেক্ষণ করেছেন গবেষকরা।

হাসপাতাল থেকে ছাড়ার সময় এবং ছয় মাস বয়সে শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ লক্ষ্য করা গেছে। তিন বছর বয়সে ২৯ শিশুর স্বাস্থ্য ও বিকাশ মূল্যায়ন করা হয়। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে তাদের শারীরিক বৃদ্ধি স্বাভাবিক ছিল।

এখনও বড় চ্যালেঞ্জ খরচ ও সুযোগ

গবেষকদের মতে, জরায়ু প্রতিস্থাপন এখনো অত্যন্ত জটিল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। যুক্তরাষ্ট্রেও হাতে গোনা কয়েকটি চিকিৎসাকেন্দ্রে এ ধরনের চিকিৎসা করা হয়। এর পাশাপাশি, সাধারণত স্বাস্থ্যবিমার আওতায় এ চিকিৎসার ব্যয় পড়ে না। ফলে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হলেও এই চিকিৎসা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে গত এক দশকের গবেষণার ফলাফল আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন গবেষকরা। তাদের মতে, জন্মগতভাবে জরায়ু না থাকা কিংবা অন্য কোনো কারণে জরায়ু দিয়ে গর্ভধারণ সম্ভব নয়—এমন নারীদের জন্য জরায়ু প্রতিস্থাপন মাতৃত্বের নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে।

সূত্র: আজকাল