উদিনেজের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয়ের পর দলের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস নিয়ে সন্তুষ্ট রোমার কোচ জিয়ান পিয়েরো গ্যাসপেরিনি। একই সঙ্গে চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা পাওলো দিবালা ও ইভান কোনে আন্তর্জাতিক বিরতির পর দলে ফিরতে পারেন বলে আশা করছেন তিনি। তবে তাঁদের ফেরার বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলতে চান না রোমা কোচ।
ইতালিয়ান সিরি ‘আ’তে উদিনেজেকে ৫-২ গোলে হারিয়েছে রোমা। ম্যাচের প্রথমার্ধেই প্রতিপক্ষের জালে চারবার বল পাঠিয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে যায় গ্যাসপেরিনির দল। তবে বিরতির পর কিছুটা ছন্দ হারিয়ে দুটি গোল হজম করে তারা। শেষ দিকে আরও একটি গোল করে জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা।
ম্যাচ শেষে দলের গোল করার ধারাবাহিকতা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন গ্যাসপেরিনি। তাঁর মতে, একাধিক খেলোয়াড়ের গোল পাওয়াটা দলের সামগ্রিক আত্মবিশ্বাসের ইতিবাচক দিক তুলে ধরছে। খেলোয়াড়েরা এখন নিজেরা গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের জন্যও গোলের সুযোগ তৈরি করতে আত্মবিশ্বাসী।
তবে দ্বিতীয়ার্ধে দলের মনোযোগ কমে যাওয়ায় কিছুটা হতাশ হয়েছেন রোমা কোচ। ৪-০ গোলে এগিয়ে থাকা এবং সামনে ম্যানচেস্টারের বিপক্ষে ম্যাচ থাকায় খেলোয়াড়দের গতি কমে যাওয়া স্বাভাবিক বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া ২০ দিনেরও কম সময়ে আটটি ম্যাচ খেলায় শারীরিক ক্লান্তিও এর অন্যতম কারণ। তবে উদিনেজের দ্বিতীয় গোলটি মনোযোগের অভাব থেকেই হয়েছে বলে মনে করেন গ্যাসপেরিনি।
চোটের কারণে মাঠের বাইরে থাকা গোলরক্ষক মাইল সভিলার, ইভান কোনে, পাওলো দিবালা ও লরেঞ্জো পেল্লেগ্রিনির ফেরার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক বিরতির আগেই চারজনের মাঠে ফেরার সম্ভাবনা থাকলেও বিষয়টি এখনো অনিশ্চিত। গ্যাসপেরিনি জানান, তাত্ত্বিকভাবে সবাই ফিরতে পারেন, আবার কারও পক্ষেই ফেরা সম্ভব না-ও হতে পারে। আগামী কয়েক দিনের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।
টানা ম্যাচ খেলার ব্যস্ত সূচি নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন রোমা কোচ। তাঁর মতে, ক্যারিয়ারে এত দীর্ঘ সময় ধরে এমন ঘন ঘন ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা খুব একটা হয়নি। আটালান্টার হয়ে ইউরোপা লিগের মৌসুমে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলেও সেটি ছিল মার্চ-এপ্রিল মাসে। এবার প্রতিটি ম্যাচেই খেলোয়াড়দের উচ্চমাত্রার শারীরিক ও মানসিক চাপ নিতে হচ্ছে।
উদিনেজের বিপক্ষে ম্যাচটি ব্যক্তিগতভাবেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে রোমার ডিফেন্ডার দানিয়েলে ঘিলার্দির জন্য। এই ম্যাচেই সিরি ‘আ’তে নিজের প্রথম গোলের দেখা পেয়েছেন তিনি। গোলটি করতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে হয়েছে বলে জানান এই ডিফেন্ডার। এমনকি শট নেওয়ার সময় পেশিতে টানও অনুভব করেছিলেন তিনি। সিরি ‘বি’তে আগে মাত্র দুটি গোল করা ঘিলার্দিকে সিরি ‘আ’তে গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে দুই বছর।
এই জয়ের ফলে চলতি মৌসুমে সিরি ‘আ’র প্রথম ১০ ম্যাচে রোমার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৮। লিগের শীর্ষ পর্যায়ে ক্লাবটির ইতিহাসে প্রথম ১০ ম্যাচে এত গোল আগে কখনো হয়নি। বর্তমানে সর্বোচ্চ গোল করা দল হিসেবেও নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে তারা। পাশাপাশি শিরোপার লড়াইয়ে ইন্টার মিলান ও লাৎসিওর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাচ্ছে গ্যাসপেরিনির দল।



