tanaka
প্রচ্ছদতথ্যপ্রযুক্তিঘরে বসেই অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটবেন যেভাবে

ঘরে বসেই অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটবেন যেভাবে

  1. ঈদ, পূজা কিংবা দীর্ঘ ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে অনেকেই গ্রামের বাড়িতে যান। আবার ছুটির অবসরে অনেকে ঘুরতে বের হন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। যাতায়াতের ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম খরচ ও স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে ট্রেন অনেকের পছন্দের বাহন। তবে ভ্রমণের পরিকল্পনায় সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় টিকিট পাওয়া। বিশেষ করে উৎসবের মৌসুমে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই অনেক ট্রেনের আসন শেষ হয়ে যায়।

    টিকিট কালোবাজারি ও অনিয়ম ঠেকাতে যাত্রীদের পরিচয় যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে না দাঁড়িয়েও বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট অথবা ‘রেল সেবা’ অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসে ট্রেনের টিকিট কেনা যায়। এ জন্য প্রথমে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

    অনলাইনে নিবন্ধন করবেন যেভাবে

    ট্রেনের টিকিট অনলাইনে কিনতে প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর, জন্মতারিখ ও সচল মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য লাগতে পারে।

    নিবন্ধনের ধাপগুলো হলো—

    ১. প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন: https://eticket.railway.gov.bd/

    ২. ওয়েবসাইটে থাকা ‘Register’ অপশনে ক্লিক করুন।

    ৩. এরপর ‘Create an Account’ পেজে প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য দিন।

    ৪. নির্ধারিত ঘরে এনআইডি নম্বর, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বরসহ চাওয়া তথ্য পূরণ করুন।

    ৫. মোবাইলে নিরাপত্তা কোড পাঠানো হলে সেটি নির্ধারিত ঘরে লিখুন।

    ৬. সব তথ্য যাচাই করে ‘Register’ বাটনে ক্লিক করুন। তথ্য সঠিক থাকলে নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার বার্তা দেখতে পাবেন।

    যেভাবে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কাটবেন

    নিবন্ধন সম্পন্ন হলে ওয়েবসাইটে নিজের অ্যাকাউন্টে লগইন করে টিকিট কেনা যাবে। এ জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন—

    ১. বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিবন্ধিত অ্যাকাউন্টের তথ্য দিয়ে লগইন করুন।

    ২. যাত্রার তারিখ নির্বাচন করুন।

    ৩. যাত্রা শুরুর স্টেশন ও গন্তব্য স্টেশনের নাম নির্ধারণ করুন।

    ৪. অনুসন্ধানের পর প্রদর্শিত ট্রেনগুলোর মধ্যে পছন্দের ট্রেন ও আসনের শ্রেণি নির্বাচন করুন।

    ৫. আসন খালি আছে কি না এবং টিকিটের মূল্য দেখে প্রয়োজনীয় আসন নির্বাচন করুন।

    ৬. যাত্রার তথ্য ও টিকিটের বিবরণ যাচাই করে পেমেন্টের ধাপে এগিয়ে যান।

    ৭. নির্ধারিত পদ্ধতিতে মূল্য পরিশোধ করে টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করুন।

    টিকিটের মূল্য পরিশোধ করবেন যেভাবে

    অনলাইনে টিকিট কেনার সময় ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধ করতে হবে। সাধারণত নির্ধারিত ব্যাংক কার্ড ও অন্যান্য অনুমোদিত অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

    পেমেন্ট সফল হলে ই-টিকিট সাধারণত নিবন্ধিত ই-মেইল ঠিকানায় পাঠানো হয়। এ ছাড়া ওয়েবসাইট বা ‘রেল সেবা’ অ্যাপের অ্যাকাউন্ট থেকেও টিকিটের তথ্য দেখা যেতে পারে।

    পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর টিকিটের বিবরণ, যাত্রার তারিখ, ট্রেনের নাম, আসন নম্বর ও অন্যান্য তথ্য ভালোভাবে মিলিয়ে নিন।

    ট্রেনে ভ্রমণের সময় যা মনে রাখবেন

    অনলাইনে টিকিট কেনার পর ই-টিকিটের কপি মোবাইলে সংরক্ষণ করুন। প্রয়োজনে প্রিন্ট করেও সঙ্গে রাখতে পারেন। টিকিট যাচাইয়ের সুবিধার্থে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র বা প্রযোজ্য পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা ভালো।

    ই-টিকিটের পরিবর্তে মুদ্রিত টিকিট সংগ্রহ করতে হবে কি না, তা বাংলাদেশ রেলওয়ের বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত হয়ে নিন। ভ্রমণের আগে টিকিটের শর্তাবলি, যাত্রার সময় এবং স্টেশনসংক্রান্ত তথ্যও যাচাই করা উচিত।

    সবশেষে, অনলাইনে টিকিট কেনার সময় শুধু বাংলাদেশ রেলওয়ের সরকারি ওয়েবসাইট বা অনুমোদিত অ্যাপ ব্যবহার করুন। অপরিচিত ব্যক্তি বা অননুমোদিত মাধ্যম থেকে টিকিট কিনলে প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    সঠিক নিয়মে অনলাইনে টিকিট কিনলে কাউন্টারে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা কমে এবং ভ্রমণের প্রস্তুতিও হয় আরও সহজ।

    প্রকাশের আগে পরামর্শ: এনআইডি যাচাই, পেমেন্টের মাধ্যম এবং ই-টিকিট প্রিন্ট করার নিয়ম সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই প্রকাশের আগে বাংলাদেশ রেলওয়ের সর্বশেষ নির্দেশনার সঙ্গে তথ্যগুলো মিলিয়ে নেওয়া ভালো।