গুমের মতো গুরুতর অপরাধ দমনে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত আইনে গুমের ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। একই বৈঠকে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে সম্পত্তি দানের সুযোগ নিশ্চিত করতে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’-এর খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনি জটিলতার কারণে ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ২০২৬’ ও ‘ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
গুমের মামলায় কঠোর শাস্তি ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।
আইন অনুযায়ী, গুমের ঘটনায় সাধারণভাবে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। তবে গুমের কারণে কেউ মারা গেলে, মরদেহ উদ্ধার হলে অথবা গুম হওয়ার পাঁচ বছর পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া না গেলে অপরাধীর জন্য মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে এবং এরপরের ১২০ দিনের মধ্যে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত আইনে আরও বলা হয়েছে, গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করে পরিবার পরিচালনার সুযোগ থাকবে। পাশাপাশি পাঁচ বছর পর গুমের সনদ ইস্যুর মাধ্যমে সম্পত্তি বণ্টনের আইনি পথও উন্মুক্ত করা হবে।
সম্পত্তি দানে জীবনকালীন ভোগাধিকার নিশ্চিত
মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’ কার্যকর হলে পিতা-মাতা, দাদা-দাদি বা নানা-নানি নিজেদের জীবনকালীন ভোগাধিকার (Lifetime Usufruct) সংরক্ষণ রেখে সন্তান বা নাতি-নাতনির নামে সম্পত্তি দান করতে পারবেন।
বর্তমান ১৮৮২ সালের ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি আইনে এ বিষয়ে স্পষ্ট বিধান না থাকায় সম্পত্তি দান করার পর দাতার নিজ জীবদ্দশায় তা ভোগ ও ব্যবহারের আইনি নিশ্চয়তা ছিল না। নতুন সংশোধনের মাধ্যমে সেই সীমাবদ্ধতা দূর হবে।
অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের নতুন তালিকা বাতিল
স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের প্রস্তাবের ভিত্তিতে ‘অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ২০২৬’ এবং ‘ঔষধের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি ২০২৬’ বাতিলের সিদ্ধান্তও অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।
সরকার জানিয়েছে, ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ অনুযায়ী জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদের সুপারিশ ছাড়াই নতুন তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি প্রণয়ন করায় বিষয়টি আদালতে রিটের মাধ্যমে বিচারাধীন হয়। ফলে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নতুন তালিকা বাতিল করা হয়েছে।
তবে ১৯৯৪ সালের আদেশ অনুযায়ী প্রণীত অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা আগের মতোই বহাল থাকবে বলে জানানো হয়েছে।



