অয়েল চেঞ্জ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন: গাজায় দুই বছরের গণহত্যার সময়ে ইসরাইলকে জ্বালানি সরবরাহ করেছে ২৫টি দেশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জীবাশ্ম জ্বালানি গবেষণা সংস্থা অয়েল চেঞ্জ ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। আজারবাইজান, কাজাখস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলে বিপুল পরিমাণ তেল সরবরাহ করেছে।
জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে (১৩ নভেম্বর, ব্রাজিল) প্রকাশিত ‘বিহাইন্ড দ্য ব্যারেল’ প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর পর্যন্ত ৩২৩টি চালানে মোট ২ কোটি ১২ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত ও পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য ইসরাইলে পাঠানো হয়েছে।
অপরিশোধিত তেলের প্রধান উৎস ছিল আজারবাইজান ও কাজাখস্তান, যা মোট সরবরাহের ৭০ শতাংশ। পরিশোধিত পেট্রোলিয়ামে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে ছিলেন রাশিয়া, গ্রিস ও যুক্তরাষ্ট্র। তুরস্ক ৬১টি চালানে ৭১ লাখ ৪৬ হাজার ৪১৭ টন অপরিশোধিত তেল পাঠিয়েছে, রাশিয়া ৫৫ চালানে ৫৩ লাখ ৬২ হাজার ২৫১ টন। এছাড়া ১৭টি দেশ ইসরাইলে ১৫২টি চালানে প্রায় ৩৩ লাখ টন পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম সরবরাহ করেছে।
রাশিয়া সরবরাহকৃত জ্বালানির ৪৫ শতাংশ দান করেছে। যুক্তরাষ্ট্র জেপি৮ সামরিক বিমানের জন্য বিশেষ জ্বালানি সরবরাহ করেছে, ৯টি চালানে মোট ৩ লাখ ৬০ হাজার টন।
অয়েল চেঞ্জ ইন্টারন্যাশনালের শাদি খলিল বলেন, “রাষ্ট্রগুলোর আন্তর্জাতিক আইনি বাধ্যবাধকতা আছে গণহত্যা প্রতিরোধ ও শাস্তির ক্ষেত্রে। ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা দিলে তারা গণহত্যায় জড়িত হওয়ার ঝুঁকি নিচ্ছে।”
গ্লোবাল এনার্জি এমবার্গো ফর প্যালেস্টাইনের সমন্বয়ক আনা সানচেজ মেরা বলেন, “বেসামরিক বা সামরিক খাতে তেল যাচ্ছে, তা পার্থক্য করার সুযোগ নেই। এটি একটি সাম্রাজ্যবাদী দখল ব্যবস্থার অংশ।”
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে কলম্বিয়া ইসরাইলকে কয়লা রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করেছে। ব্রাজিল ২০২৪ সালের মার্চে সরাসরি ইসরাইলে তেল পাঠিয়েছে, তবে স্থানীয় ইউনিয়নের দাবি অনুযায়ী, ব্রাজিল সম্ভবত ইতালির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে তেল পাঠাচ্ছে।



