সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় চরম অবহেলা করা হয়েছিল এবং পরিকল্পিতভাবে তাকে মৃত্যুর ঝুঁকির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়—এমন অভিযোগ তুলে এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অন্যতম সদস্য প্রফেসর এফ এম সিদ্দিক।
শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক শোকসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রফেসর এফ এম সিদ্দিক বলেন, দীর্ঘ ১২ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আনুষ্ঠানিকভাবে একটি পেশাদার মেডিকেল টিম নিয়ে ২০২১ সালের ২৭ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়। সে সময় কোভিড-১৯–সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার পর পরীক্ষায় দেখা যায়, তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত।
তিনি অভিযোগ করেন, ওই সময় সরকার নির্ধারিত মেডিকেল বোর্ড নিয়মিতভাবে তাকে ‘মিথোট্রেক্সেট’ নামক একটি ওষুধ সেবন করাচ্ছিল। বেগম খালেদা জিয়া রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত হলেও তার পাশাপাশি ফ্যাটি লিভার ডিজিজ ছিল। এমন অবস্থায় মিথোট্রেক্সেট সেবনের ক্ষেত্রে নিয়মিত লিভার ফাংশন টেস্ট করা বাধ্যতামূলক হলেও তা করা হয়নি।
এফ এম সিদ্দিক বলেন, আমাদের কাছে প্রমাণ আছে—ম্যাডামের লিভারের অবস্থা ক্রমেই খারাপ হচ্ছিল। অথচ ন্যূনতম আল্ট্রাসনোগ্রাফিও করা হয়নি। প্রয়োজনে বেডসাইডে খুব সহজেই পরীক্ষা করা যেত। অন্ততপক্ষে মিথোট্রেক্সেট বন্ধ করা ছিল কর্তব্য। তিনি বলেন, এই ওষুধই তার ফ্যাটি লিভার ডিজিজকে সিরোসিসে রূপান্তরিত করেছে। সে প্রেক্ষাপটে এটি তার লিভারের জন্য ‘স্লো পয়জন’-এর মতো কাজ করেছে।
তিনি আরও বলেন, লিভারের অবস্থার অবনতি ঘটায় বেগম খালেদা জিয়া বারবার অনুরোধ করেছিলেন যেন তার আস্থাভাজন চিকিৎসকদের মেডিকেল বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আদালত তার শারীরিক সমস্যার বিষয়ে জানতে চাইলেও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বর্তমান বিএমইউ) পক্ষ থেকে দেওয়া প্রতিবেদনে লিভার রোগের কোনো উল্লেখই ছিল না। প্রকৃত তথ্য গোপন করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
প্রফেসর এফ এম সিদ্দিক বলেন, এটি ছিল ইচ্ছাকৃত অবহেলা এবং একটি অমার্জনীয় অপরাধ। বিষয়টি হত্যার অংশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি তিনটি বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান—
১) সরকার গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা কারা ছিলেন এবং তারা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন কি না,
২) ভর্তিকালীন সময়ে কোন কোন চিকিৎসক তার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেখানে অবহেলা ছিল কি না,
৩) ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বোর্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে না দেওয়ার পেছনে কারা বাধা দিয়েছিল।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে বিএমইউতে বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা–সংক্রান্ত সব নথি আইনগতভাবে জব্দ করা এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেবে।
শেষে তিনি বলেন, ‘Justice delayed is justice denied’—ন্যায়বিচারে বিলম্ব মানেই ন্যায়বিচার অস্বীকার।



