খাবার খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটলে দ্রুত শরীরের চর্বি কমে যায়—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ধারণা বেশ প্রচলিত। ওজন কমানোর আশায় অনেকেই তাই প্রতিবার খাবারের পর হাঁটার অভ্যাস করছেন। কিন্তু হাঁটা শুরু করলেই কি শরীরে জমে থাকা চর্বি সরাসরি পুড়তে থাকে? বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়।
চিকিৎসকদের মতে, খাবারের পর হাঁটার প্রধান উপকার হলো সদ্য খাওয়া খাবার থেকে পাওয়া গ্লুকোজ শরীর কীভাবে ব্যবহার করছে, সেটিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়া। এটি সরাসরি শরীরের জমে থাকা চর্বি গলিয়ে দেয় না। তবে নিয়মিত এমন অভ্যাস রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদে ওজন ব্যবস্থাপনায় সহায়ক হতে পারে।
খাবারের পর হাঁটলে শরীরে কী পরিবর্তন হয়?
কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়ে। এ সময় অগ্ন্যাশয় ইনসুলিন তৈরি করে, যা গ্লুকোজকে শরীরের কোষে পৌঁছে দিতে সাহায্য করে।
খাবারের পর হাঁটলে পেশি রক্তের গ্লুকোজ শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় ইনসুলিনের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমে এবং খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়াও নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে। ইনসুলিনের মাত্রা তুলনামূলক কম থাকলে পরবর্তী সময়ে শরীরের সঞ্চিত শক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়ায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
হাঁটার আরেকটি সুবিধা হলো, এতে শরীরের মোট ক্যালরি খরচ সামান্য বাড়ে। খাবার হজম ও প্রক্রিয়াজাত করার সময় শরীর স্বাভাবিকভাবেই কিছু অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করে, যাকে ডায়েট-ইনডিউসড থার্মোজেনেসিস বলা হয়। খাবারের পর বসে থাকার পরিবর্তে হালকা হাঁটাহাঁটি করলে এই সময়ের সামগ্রিক শক্তি ব্যয় কিছুটা বাড়তে পারে।
হজমেও মিলতে পারে উপকার
খাবারের পর হালকা শারীরিক কার্যক্রম হজম প্রক্রিয়ায়ও সহায়ক হতে পারে। হাঁটাচলা করলে পাকস্থলী ও অন্ত্রের মধ্য দিয়ে খাবার এগিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া কিছুটা সক্রিয় হয়। এতে খাবারের পর পেট ভার লাগা, পেট ফাঁপা কিংবা অস্বস্তির মতো সমস্যা কমতে পারে।
কখন হাঁটা সবচেয়ে ভালো?
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার শেষ করার প্রায় ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে হাঁটা শুরু করা যেতে পারে। এ সময় সাধারণত রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়তে থাকে। দীর্ঘ সময় হাঁটার প্রয়োজনও নেই—১০ থেকে ১৫ মিনিটের হালকা হাঁটাহাঁটিও উপকারী হতে পারে।
হাঁটার গতি আরামদায়ক রাখাই ভালো। ঘণ্টায় প্রায় ২ থেকে ৩ মাইল গতিতে স্বাভাবিকভাবে হাঁটা যথেষ্ট। বিশেষ করে ভারী খাবার খাওয়ার পরপরই তীব্র ব্যায়াম না করাই ভালো। এতে পেটের খিঁচুনি, অস্বস্তি কিংবা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই খাবারের পর হাঁটাকে চর্বি দ্রুত গলানোর কোনো তাৎক্ষণিক উপায় হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং নিয়মিত অল্প সময় হাঁটার অভ্যাস রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ, হজমে সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস



