tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশগাজীপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপে উদ্বেগ, তিন দিনে প্রাণ গেল দুই শিক্ষার্থীর

গাজীপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপে উদ্বেগ, তিন দিনে প্রাণ গেল দুই শিক্ষার্থীর

গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের একজন কলেজছাত্রী, অন্যজন সাত বছরের শিশু।

বুধবার (২৬ আগস্ট) ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার মিতু (২০)। এর দুই দিন আগে, ২৩ আগস্ট জরুন দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকায় ডেঙ্গুতে মারা যায় সাত বছরের শিশু শিক্ষার্থী সাদিয়া।

মিতু বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার চণ্ডীপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে তিনি গাজীপুরের কোনাবাড়ী কুদ্দুস নগর এলাকায় থাকতেন। গত বছর কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর অনার্সে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৮ আগস্ট মিতুর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। শুরুতে বাসায় রেখেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে তাকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মিতুর চাচা মাইনুল ইসলাম বলেন, তাকে ঘিরে পরিবারের অনেক আশা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই তার মৃত্যুতে সবকিছু বদলে গেছে। পরিবারের সদস্যরা শোকে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়।

অন্যদিকে, ২৩ আগস্ট ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া শিশু সাদিয়া পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানার তেলিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে সে গাজীপুরের জরুন দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকায় ফজলু মোল্লার বাসায় ভাড়া থাকত। স্থানীয় একটি নূরানি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত শিশুটি।

এদিকে, কয়েক সপ্তাহ ধরে কোনাবাড়ী ও আশপাশের এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কও বাড়ছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বেসরকারি ক্লিনিকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা যাচ্ছে। রোগীর স্বজনদের দাবি, কিছু হাসপাতালে শয্যা সংকট থাকায় বাধ্য হয়ে বারান্দাতেও রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল মোড়ল বলেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল অনেক পরিবার ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে পারছে না। তাদের পাশে দাঁড়াতে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে কয়েকটি ওয়ার্ডে ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তবে এসব কার্যক্রমের পরও আক্রান্তের সংখ্যা কমছে না বলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বাড়ির আশপাশে টানা তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর সম্ভাবনা থাকে। পরবর্তীতে ওই মশা কামড়ালে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত ফগিংয়ের পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হলে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যাবে।