tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকতিব্বতে চীনের নির্মাণকাজেই কি নেপালে ভয়াবহ বন্যা? উঠছে প্রশ্ন

তিব্বতে চীনের নির্মাণকাজেই কি নেপালে ভয়াবহ বন্যা? উঠছে প্রশ্ন

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালি সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট। মধ্য নেপালের রাসুওয়া জেলার ভোতেকোশি নদীতে আঘাত হানা এই বন্যায় এখনো প্রায় ৪০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক।

ভয়াবহ এই বন্যায় সড়ক, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতি হয়েছে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কেরও। নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধারকাজে নেপাল সেনাবাহিনী এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত ৩০টির বেশি হেলিকপ্টার মোতায়েন করা হয়েছে।

বন্যার সঙ্গে চীনের নির্মাণকাজের যোগসূত্রের দাবি

নেপালে এই আকস্মিক বন্যার পেছনে চীনের অংশে হিমালয় অঞ্চলে চলা নির্মাণকাজের ভূমিকা থাকতে পারে বলে দাবি উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নেপাল করেসপনডেন্সের (Nepal Correspondence) দেওয়া এক পোস্টে দাবি করা হয়েছে, চীনের তিব্বত অংশে হিমবাহসংলগ্ন এলাকায় বসতি ও অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি করেছে। এর ফলে তুষারধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বেড়ে থাকতে পারে।

পোস্টটিতে আরও দাবি করা হয়, সর্বশেষ এই ঘটনা ঘটেছে নেপাল সীমান্তের কাছে তিব্বতের গিয়েরং শহরসংলগ্ন এলাকায়। দাবি অনুযায়ী, আশপাশের পাহাড় কেটে শহরটি গড়ে তোলা হয়েছে ও এটি ত্রিশুলি নদীর প্রাকৃতিক গতিপথের কাছেই অবস্থিত।

এছাড়া রাসুওয়া সীমান্তের কাছে গিয়েরং বন্দর একটি নদীর সঙ্গমস্থলের কাছাকাছি নির্মাণ করা হয়েছে বলেও পোস্টটিতে অভিযোগ করা হয়। এর ফলে নেপালের দিকে পানির প্রবাহ বাড়তে পারে বলে দাবি করা হয়েছে।

অভিযোগে কথিত পরিবেশগত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিয়ে নেপাল সরকারের চীনের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত বলেও আহ্বান জানিয়েছে নেপাল করেসপনডেন্স।

গিয়েরং বন্দরের কাছে চলাচলে বিধিনিষেধ

এদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে সীমান্তবর্তী গিয়েরং বন্দরের কাছে কাদা ও পাথরধসের পর সেখানে যাওয়ার সড়কগুলোতে সাময়িক যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।

জরুরি ও উদ্ধারকাজে ব্যবহৃত যানবাহন ছাড়া গিয়েরং শহর থেকে বন্দর পর্যন্ত সব সড়ক যান চলাচলের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ বহাল থাকবে।

চীনের শিগাতসে শহরের গিয়েরং কাউন্টির জরুরি ব্যবস্থাপনা ব্যুরো জানিয়েছে, কাদা ও পাথরধসের কারণে বন্দর এলাকার সড়কগুলো অনিরাপদ হয়ে পড়েছে। এতে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যোগাযোগব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তবে উল্লেখ্য, নেপালের ভয়াবহ বন্যার সঙ্গে তিব্বতে চীনের নির্মাণকাজের সরাসরি যোগসূত্র থাকার দাবি নেপাল করেসপন্ডেন্স Nepal Correspondence-এর এক্স পোস্টে করা অভিযোগের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। দেওয়া প্রতিবেদনে এ দাবির পক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত, বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত প্রমাণের তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।