tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকনেপালে ভয়াবহ বন্যা স্ত্রীকে বাঁচাতে তার হাতটা ধরে ছিলাম, কিন্তু...

নেপালে ভয়াবহ বন্যা স্ত্রীকে বাঁচাতে তার হাতটা ধরে ছিলাম, কিন্তু…

হিমালয়ের পাদদেশে নেমে আসা কাদা, পাথর ও পানির ভয়ংকর স্রোত যখন ঘরবাড়ি গিলে খাচ্ছিল, তখন স্ত্রীকে বাঁচাতে শেষ চেষ্টা করেছিলেন নেপালের কেশব প্রসাদ বারাল। স্ত্রীর হাত ধরে তাকে বাড়ির ছাদে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু চোখের সামনেই কাদার স্রোত তার স্ত্রীকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৬

নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ এই দুর্যোগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পর্যন্ত অন্তত ১৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে। কাদা ও পাথরের বিশাল ধস নদীতে আছড়ে পড়ার পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা শহর, গ্রাম ও উপত্যকাজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ।

নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে বৃহস্পতিবার হেলিকপ্টার নিয়ে আকাশপথে তল্লাশি চালান উদ্ধারকারীরা। নেপালের পর্যটন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিখোঁজ ৫৭৯ পর্যটকের মধ্যে ৪০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিক। দুর্গত অঞ্চলটি ট্রেকার ও কৈলাস তীর্থযাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হওয়ায় নিখোঁজের সংখ্যা এত বেশি।

পুলিশ আশঙ্কা করছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়বে।

নেপাল পুলিশের মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, উদ্ধার অভিযান আবার শুরু হয়েছে এবং আরও মরদেহ পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নিহতের সংখ্যা ১৬২-এর বেশি হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

নেপাল পর্যটন বোর্ডের মুখপাত্র সুনীল শর্মা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, নিখোঁজ পর্যটকদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৪ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৪ জন রয়েছেন।

৮ বছর বয়সী কেশব। নিরাপদে উদ্ধার হওয়ার পরও তার চোখে ভাসছে শুধু সেই মুহূর্তের স্মৃতি- যখন তিনি স্ত্রীকে ধরে রাখতে পারেননি।