কলম্বিয়ার মধ্যাঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন। দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমাজনসংলগ্ন গুয়াভিয়ারি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কোকেন উৎপাদন ও পাচারের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই অঞ্চলটি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। খবর রয়টার্সের।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) গুয়াভিয়ারি অঞ্চলের এল রেতোর্নো এলাকার একটি গ্রামীণ স্থানে সংঘর্ষটি ঘটে। অঞ্চলটি রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এটিই সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বলে জানিয়েছে সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানানো হয়, ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণই এই সংঘর্ষের মূল কারণ। কারণ এলাকাটি কোকেন উৎপাদন ও পাচারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কলম্বিয়ার বিপ্লবী সশস্ত্র বাহিনী (ফার্ক)-এর দুটি ভিন্ন গোষ্ঠী এ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। একটি গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন দেশের অন্যতম বিদ্রোহী নেতা নেস্তর গ্রেগোরিও ভেরা, যিনি ‘ইভান মরদিস্কো’ নামে পরিচিত। অপর গোষ্ঠীর নেতৃত্বে আছেন আলেক্সান্দার দিয়াজ মেন্দোজা, যিনি ‘কালারকা কর্দোবা’ নামে পরিচিত।
সামরিক সূত্র জানায়, এই দুই গোষ্ঠী আগে তথাকথিত সেন্ট্রাল জেনারেল স্টাফের অংশ ছিল। তবে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে তারা আলাদা হয়ে যায়। নিহতদের সবাই ভেরার গোষ্ঠীর সদস্য বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। দিয়াজের গোষ্ঠীর এক নেতা রয়টার্সকে ২৭ জন নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে সেনাবাহিনীর আশঙ্কা, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বর্তমানে দিয়াজের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীটি বামপন্থী প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে ভেরার গোষ্ঠী সরকার দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি স্থগিত করার পরও বেসামরিক মানুষ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই দুই গোষ্ঠীই ২০১৬ সালের শান্তিচুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল। ওই চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ১৩ হাজার ফার্ক সদস্য অস্ত্র ত্যাগ করে সমাজে পুনর্বাসনের সুযোগ পায়। কলম্বিয়ায় ছয় দশকের বেশি সময় ধরে চলা সশস্ত্র সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। মাদক পাচার ও অবৈধ খনির অর্থে পরিচালিত এই সংঘাতের অবসানে প্রেসিডেন্ট পেত্রোর শান্তি উদ্যোগ বর্তমানে স্থবির অবস্থায় রয়েছে। পলাতক বিদ্রোহী নেতা ইভান মরদিস্কোকে কুখ্যাত মাদকসম্রাট পাবলো এস্কোবারের সঙ্গে তুলনা করেছেন প্রেসিডেন্ট পেত্রো।



