কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ওয়ার্ড বিএনপির কমিটির পদ-পদবি নিয়ে বিরোধের জেরে জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শ্যামল ভূঁইয়ার ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ৬ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
বুধবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার রফিকমোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শফিকুল ইসলাম শ্যামল ভূঁইয়া কটিয়াদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জালালপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। প্রায় আট মাস আগে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক রফিক মিয়াকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে দলীয় নীতিমালা অনুযায়ী ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদ মিয়াকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সম্প্রতি রফিক মিয়াকে আবার সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল করা হলে এ নিয়ে দলের অভ্যন্তরে নতুন করে অসন্তোষ দেখা দেয়। এরই জেরে আসাদ মিয়া ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আসাদ মিয়া দাবি করেন, সাধারণ সম্পাদক পদ দেওয়ার কথা বলে শফিকুল ইসলাম শ্যামল ভূঁইয়া তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নিয়েছিলেন। পরে তাকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হলেও পদ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে শফিকুলের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে শফিকুল ইসলাম শ্যামল ভূঁইয়া বলেন, সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে কটিয়াদী যাওয়ার পথে রফিকমোড়ে পৌঁছালে ১০-১২ জন তার গাড়ির গতিরোধ করেন। পরে তারা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তার সঙ্গে থাকা ৬ লাখ টাকা নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন তিনি।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজ রহমান মিঠু বলেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির ওপর হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। দলীয় বিরোধের কারণে ঘটনা ঘটে থাকলে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, হামলার ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



