tanaka

অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ নয়, কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহারের নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার পূর্ণ সদ্ব্যবহার এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ না করতে বিচারকদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। একই সঙ্গে...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিএডিপি থেকে কমল ৩০ হাজার কোটি টাকা

এডিপি থেকে কমল ৩০ হাজার কোটি টাকা

মেগা প্রকল্পে বড় অঙ্কের বরাদ্দ ছাঁটাই

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাসহ নানা কারণে উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেওয়ায় বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। সংশোধিত এডিপি (আরএডিপি) অনুমোদনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সংশোধিত এডিপি অনুমোদন দেয়।

চলতি অর্থবছরে মূল এডিপিতে বরাদ্দ ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। তবে সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে ২ লাখ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ কাটছাঁটের বড় অংশই এসেছে মেগা প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ কমানোর মাধ্যমে।

সংশোধিত এডিপি অনুযায়ী মোট ২ লাখ কোটি টাকার মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ থেকে ৭২ হাজার কোটি টাকা। ফলে মূল এডিপির তুলনায় সরকারি তহবিলের বরাদ্দ কমছে ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ কমছে ১৪ হাজার কোটি টাকা।

মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ কমানো হয়েছে মেট্রোরেল লাইন-১ (এমআরটি লাইন-১) প্রকল্পে। চলমান এডিপিতে এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ ছিল ৮ হাজার ৬৩১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। সংশোধিত এডিপিতে তা কমিয়ে ৮০১ কোটি টাকা করা হয়েছে। ফলে ৭ হাজার ৮৩০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা বা প্রায় ৯১ শতাংশ বরাদ্দ বাতিল হয়েছে।

বরাদ্দ কমার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প। এ প্রকল্পে পূর্বের ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা থেকে ২ হাজার ৯৮৩ কোটি টাকা কমিয়ে সংশোধিত বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের প্রায় ৭৩ শতাংশ কম।

তৃতীয় অবস্থানে থাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পে বরাদ্দ কমেছে ৭৩২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। মূল এডিপিতে ১ হাজার ৩৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা থাকলেও সংশোধিত বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ৭১ শতাংশ হ্রাস।

এছাড়া বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পে ৪২৫ কোটি টাকা থেকে ২৫৬ কোটি ৪ লাখ টাকা কমিয়ে সংশোধিত বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৬৮ কোটি ৬ লাখ টাকা, যা ৬০ শতাংশ কম।

মেট্রোরেল লাইন-৫ (এমআরটি লাইন-৫) প্রকল্পে ১ হাজার ৪৯০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা থেকে বরাদ্দ কমিয়ে ৫৯২ কোটি ৮ লাখ টাকা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বরাদ্দ কমেছে প্রায় ৬০ শতাংশ।

মেট্রোরেল লাইন-৬ (এমআরটি লাইন-৬) প্রকল্পে বরাদ্দ ১ হাজার ৩৪৭ কোটি ৪৪ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ২৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২৪ শতাংশ হ্রাস।

এদিকে হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ১ হাজার ৮৭২ কোটি ৫ লাখ টাকা থেকে ৩০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা কমিয়ে সংশোধিত বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ হাজার ৫৬২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এতে বরাদ্দ কমেছে ১৭ শতাংশ।