একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট কবি আল মুজাহিদী আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুর ২টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সাইফুল্লাহ মানসুর।
পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও হৃদরোগে ভুগছিলেন আল মুজাহিদী। প্রায় এক বছর আগে চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে তিনি শারীরিকভাবে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েন এবং দীর্ঘ সময় শয্যাশায়ী ছিলেন।
আল মুজাহিদী শুধু একজন কবিই নন, তিনি ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। সাহিত্যাঙ্গনে তার অবদান বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক। কবিতা, উপন্যাস, গল্প, শিশুসাহিত্য, প্রবন্ধ, অনুবাদ ও গবেষণায় তিনি রেখে গেছেন সমৃদ্ধ সৃষ্টিকর্ম।
তার উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে হেমলকের পেয়ালা, ধ্রুপদ ও টেরাকোটা, যুদ্ধ নাস্তি, মৃত্তিকা অতি-মৃত্তিকা, প্রিজন ভ্যান, দিদেলাস ও ল্যাবিরিস্থ, ঈডের হ্যামলেট, প্রাচ্য পৃথিবী, পৃথিবীর ধুলো, সৌর জোনাকি, ভিতা নুওভা, অ্যাকাডেমাসের বাগান, আল মুজাহিদীর শ্রেষ্ঠ কবিতা, আল মুজাহিদীর প্রেমের কবিতা, সন্ধ্যার বৃষ্টি, কালেরবন্দীতে, পাখির পৃথিবী, আলবাট্রাস, ভঙ্গুর গোলাপ, কাঁদো হিরোশিমা কাঁদো নাগাসাকি এবং পালকি চলে দুলকি তালে।
উপন্যাসে তার উল্লেখযোগ্য রচনাগুলো হলো প্রথম প্রেম, চাঁদ ও চিরকুট, মিলু এট ও স্যোনাটা, লাল বাতির হরিণ, রুপোলি রোদ্দুর, আলোর পাখিটা, ছুটির ছুটি, খোকার আকাশ ও খোকার যুদ্ধ।
গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে প্রপঞ্চের পাখি, বাতাবরণ এবং ভরা কটাল-মরা কটালের চাঁদ। শিশুসাহিত্যে তিনি রচনা করেছেন হালুম হুলুম, তালপাতার সেপাই, শেকল কাটে খাঁচার পাখি, সোনার মাটি-রুপোর মাটি ও ইস্টিশানে হুইসেল।
এ ছাড়া তার প্রবন্ধগ্রন্থ সমাজ ও সমাজতত্ত্ব এবং অনুবাদগ্রন্থ কাইফি আজমির কবিতা, পৃথিবীর কবিতা, আহমদ ফরাজের কবিতা, উর্দু কবিতা, হিন্দি কবিতা ও হাইনরীশ হাইনের কবিতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গবেষণাগ্রন্থ হিসেবে তিনি রচনা করেন কালান্তরের যাত্রী।
সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অর্জন করেন জীবনানন্দ দাশ একাডেমি পুরস্কার, কবি জসীমউদ্দীন একাডেমি পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন একাডেমি পুরস্কার, শেরেবাংলা সংসদ পুরস্কার, জয়বাংলা সাহিত্য পুরস্কার, বাসাসপ কাব্যরত্ন পদকসহ দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক।
তার মৃত্যুতে দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।



