ইরানের বিরুদ্ধে টানা ১৩ রাতের সামরিক হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র হঠাৎ আক্রমণ স্থগিত করলেও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা কমেনি। বরং নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে লোহিত ও কাস্পিয়ান সাগর ঘিরে। একদিকে লোহিত সাগর উপকূলীয় সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। অন্যদিকে কাস্পিয়ান সাগরে নিজেদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে তেহরান।
টানা ১৩ রাতের ব্যাপক হামলার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী সাময়িকভাবে আক্রমণ বন্ধ করলেও লোহিত সাগরে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ বহাল রয়েছে। হোয়াইট হাউস সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন অস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়া, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের উদ্বেগ বিবেচনায় নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত সামরিক অভিযানের বদলে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তবে এই বিরতিতে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান তো হয়নি, বরং সংঘাত পেয়েছে নতুন মাত্রা। হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের জিজান ও ইয়ানবু শহরে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একাধিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। জবাবে ইয়েমেনের মারিব ও আল-জাওফ প্রদেশে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনী। এতে ২০২২ সাল থেকে ইয়েমেনে চলা দীর্ঘদিনের যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি জাহাজে হামলার ঘটনায় তেহরান ও কিয়েভের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। হামলায় একজন নাবিক নিহত ও আরেকজন আহত হওয়ার পর তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইউক্রেনীয় লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে ইরানকে স্যাটেলাইট তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া।
বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথ—হরমুজ প্রণালী ও লোহিত সাগর—একযোগে সংঘাতের ঝুঁকিতে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে হুথিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়ে দেশটির তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছিল। সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় সেই হুমকি বাস্তবে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়ে



