ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে ১৩ মাস বয়সী এক শিশুকে তার বাবা দুই লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের মাইজহাটি সুতিভরাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত নাঈম (৩৫) ওই গ্রামের গাছ কাটার শ্রমিক উজ্জ্বল মিয়ার বড় ছেলে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রোববার রাত ১২টার দিকে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশায় করে এক ব্যক্তি নাঈমের বাড়িতে আসেন। পরে দুই লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঢাকার উদ্দেশে চলে যান বলে অভিযোগ। ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বুধবার বিকেলে সরেজমিনে নাঈমের বাড়িতে গিয়ে তার সৎ দাদি নাসিমা বেগমের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘রোববার রাতে অটোতে করে মোজাহিদকে ঢাকায় নিয়ে গেছে। পরে শুনেছি, নাঈম দুই লাখ টাকায় তার ছেলেকে বিক্রি করেছে।’
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই বছর আগে ঢাকায় থাকার সময় বরিশালের রোজিনা নামের এক নারীর সঙ্গে নাঈমের পরিচয় ও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা বিয়ে করেন। তাদের সংসারে মোজাহিদ নামে একটি ছেলে সন্তান জন্ম নেয়।
শিশুটির বয়স যখন প্রায় আট মাস, তখন তার মা রোজিনাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে নাঈমের বিরুদ্ধে। এরপর থেকে শিশুটি তার বাবা ও দাদা-দাদির কাছেই থাকত।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বাতেন, মাজহারুল ইসলাম হিমেল, বোরহান উদ্দিনসহ কয়েকজনের দাবি, নাঈমের বিরুদ্ধে মাদক, চুরি ও ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনায় পুলিশ তাকে আটকও করেছিল বলে তারা জানান।
রাজিবপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল কালাম খান বলেন, টাকার জন্য নিজের সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা আগে কখনো শুনিনি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলী ফকির বলেন, ‘এ বিষয়টি আমি অবগত নই। যদি হয়ে থাকে, এটা আদিম যুগকে হার মানিয়েছে। এর শাস্তি হওয়া দরকার।’
তবে শিশুটিকে সত্যিই বিক্রি করা হয়েছে কি না এবং বর্তমানে সে কোথায় রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে শিশুটির বাবা নাঈমের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। শিশুটির মা রোজিনার সঙ্গেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
শিশুটির অবস্থান এবং তাকে টাকা নিয়ে অন্য কারও কাছে হস্তান্তরের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



