ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য সমঝোতা চুক্তি নিয়ে হোয়াইট হাউসে উপদেষ্টাদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শুক্রবার (২৯ মে) অনুষ্ঠিত ওই বৈঠক থেকে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি বলে জানিয়েছে বিবিসি।
বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে অবশ্যই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা থেকে সরে আসতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী আন্তর্জাতিক নৌযান চলাচলের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করতে হবে এবং সেখানে পেতে রাখা সব মাইন অপসারণ করতে হবে।
হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের আগে ইরান জানিয়ে দেয়, তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা করছে না।
তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, দুই দেশ একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকের কাঠামো নিয়ে প্রাথমিকভাবে একমত হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য এটি এখন ট্রাম্প ও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের বিবেচনায় রয়েছে।
প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় বিদ্যমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরুর বিষয়টি রয়েছে বলে জানা গেছে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা সিবিএস নিউজকে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমন কোনো চুক্তি করবেন না যা যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের পরিপন্থী। তার মূল শর্ত হলো—ইরান কখনোই পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারবে না।”
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন যে, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি সমঝোতার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। তবে এখন পর্যন্ত আলোচনার দৃশ্যমান কোনো ফলাফল পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, তিনি হরমুজ প্রণালীতে আরোপিত মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহারে প্রস্তুত, যাতে সেখানে আটকে থাকা জাহাজগুলো আবার স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে।
এছাড়া তিনি দাবি করেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ অপসারণ ও ধ্বংসের অনুমতি যুক্তরাষ্ট্রকে দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো অর্থ লেনদেন হবে না।”
পরে হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেন যে সিচুয়েশন রুমের বৈঠক শেষ হয়েছে। তবে বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে তিনি আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
অন্যদিকে, ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে “সত্য ও অসত্যের মিশ্রণ” রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, আলোচনায় থাকা সমঝোতা স্মারকে পারমাণবিক উপকরণ ধ্বংসের কোনো শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাইও রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে বলেন, তাদের প্রধান লক্ষ্য যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং বর্তমানে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে কোনো আলোচনা চলছে না।
যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উৎপাদন বন্ধ এবং বিদ্যমান মজুদ ধ্বংসের দাবি জানিয়ে আসছে। ওয়াশিংটনের আশঙ্কা, এসব উপকরণ তাত্ত্বিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং দেশটি কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি।



