মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর ওপর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় এবং বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে। হামলায় অন্তত ২০০ মার্কিন পাইলটের আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করা হয়েছে এবং অসংখ্য অত্যাধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস বা অকেজো হয়েছে বলে তেহরান দাবি করছে।
টাইমস্ অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ইরান থেকে ছোড়া শত শত দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল ও কামিকাজে ড্রোন আকাশ ভরে বিস্তার করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাইলটদের ব্যারাক এবং আবাসনকে লক্ষ্য করে মিসাইলগুলো নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, হামলার ফলে মার্কিন বিমান বহরের কার্যক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, এই হামলায় মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের আওতাধীন বিভিন্ন ঘাঁটিতে রাখা এফ-১৬ এবং অন্যান্য উন্নত প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলো ‘পঙ্গু’ হয়েছে। যদিও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল, ড্রোন ও মিসাইলের সংখ্যা এত বেশি ছিল যে মার্কিন ‘প্যাট্রিয়ট’ প্রতিরক্ষা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে এই ‘অল-আউট’ হামলার পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। হামলার পর পেন্টাগন জরুরি বৈঠক ডেকেছে। যদিও মার্কিন সামরিক বাহিনী ধ্বংসপ্রাপ্ত বিমান এবং হতাহত সংখ্যা নিশ্চিত করেনি, তারা হামলার সত্যতা স্বীকার করেছে। হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইরানের এই হঠকারী আচরণের চরম মূল্য দিতে হবে।”
হামলার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে এবং হরমুজ প্রণালীতে সকল বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চিত যুদ্ধে প্রবেশের পথে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ওই অঞ্চলে অবস্থানরত প্রবাসীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
সূত্র: টাইমস্ অফ ইন্ডিয়া



