ব্যাপক বিক্ষোভে কার্যত অচল হয়ে পড়া ইরানের জনগণকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সশস্ত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীকে জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় পাহলভি বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বিশেষ করে তেহরানের বাজারকেন্দ্রিক বিক্ষোভ তিনি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। সরকারের কঠোর দমন-পীড়নের মধ্যেও জনগণের প্রতিরোধকে তিনি “প্রশংসনীয়” বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “যেকোনো সরকার যত শক্তিশালীই হোক না কেন, জনগণ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুললে একসময় সরকারের সমর্থকরাও তাতে যুক্ত হয় এবং শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয়।”
তিনি আন্দোলনকে সুশৃঙ্খলভাবে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের দিকে পরিচালিত করার ওপর জোর দেন। এ সময় তিনি ৮ ও ৯ জানুয়ারি রাত ৮টায় দেশজুড়ে—সড়কে বা নিজ নিজ বাসা থেকে—সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ার আহ্বান জানান এবং জানান, এরপর তিনি পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে পাহলভি বলেন, “আপনারা জনগণকে রক্ষা করার শপথ নিয়েছেন। দেশ আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সামনে দাঁড়িয়ে। প্রশ্ন হলো—আপনারা অপরাধীদের পক্ষে থাকবেন, না জনগণের পক্ষে?” তিনি আরও বলেন, ইসলামপন্থি শাসকগোষ্ঠীর পতন হবে কি না—এটি আর প্রশ্ন নয়; প্রশ্ন হলো, তাদের পতন কখন ঘটবে। সেই সময় দ্রুত ঘনিয়ে আসছে।
তিনি নিরাপত্তা বাহিনীকে জনগণের ওপর গুলি না চালানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, এতে তারা শুধু দায়িত্বই পালন করবে না, নিজেদের ও পরিবারের ভবিষ্যৎও রক্ষা করবে।
উল্লেখ্য, ইরানের শেষ শাহ ছিলেন মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি। ১৯৭৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটে। তার আগেই ১৯৭৯ সালের ১৬ জানুয়ারি তিনি দেশত্যাগ করেন এবং ১৯৮০ সালে মিসরের কায়রোতে নির্বাসিত অবস্থায় মারা যান। তার জ্যেষ্ঠ পুত্র রেজা পাহলভি ১৯৭৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক প্রশিক্ষণে যান এবং বিপ্লবের পর আর দেশে ফেরেননি। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটনে নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। শাহের মৃত্যুর পর পরিবার ও সমর্থকদের পক্ষ থেকে তাকে ক্রাউন প্রিন্স ঘোষণা করা হয়।
সূত্র: জেরুজালেম পোস্ট



