tanaka

জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের নিয়োগ নবায়ন

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক পদে তানজিম ইবনে ওয়াহাবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ আরও এক বছরের জন্য নবায়ন করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তে নমনীয়তার ইঙ্গিত ইরানের

ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের শর্তে নমনীয়তার ইঙ্গিত ইরানের

সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হালকা বা ডাইলিউট করতে প্রস্তুত ইরান। তবে তার আগে দেশটির ওপর আরোপিত সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তেহরান। এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছেন ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামি। ওয়াশিংটনের সঙ্গে চলমান আলোচনায় এটিকে ইরানের অবস্থানের একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্সের।

গত সপ্তাহে ওমানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কূটনীতিকদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এমন এক সময়ে এই আলোচনা শুরু হয়, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ওই অঞ্চলে একটি নৌবহর মোতায়েন করেন। এতে সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়। একই সময়ে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর এটিকে দেশটির অন্যতম বড় অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গত বছর ট্রাম্প ইসরাইলের সামরিক অভিযানে সমর্থন জানিয়ে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালান। গত মাসে বিক্ষোভ চলাকালে তিনি সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকিও দেন, যদিও শেষ পর্যন্ত তা কার্যকর হয়নি। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে তাদের ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগ করতে হবে। জাতিসংঘের পারমাণবিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইরানের কাছে ৪৪০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম ছিল, যা সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ—অস্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশের কাছাকাছি।

সোমবার ইসনা’কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ ইসলামি বলেন, ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পাতলা করার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ওপর। তবে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য দেশে পাঠানোর কোনো প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ওঠেনি বলেও জানান তিনি।

এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানির ওমান সফরের কথা জানিয়েছে আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম। সফরকালে তিনি ওমানের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন। পরবর্তী দফার আলোচনার তারিখ ও স্থান এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, নতুন দফার আলোচনা এই ইস্যুর ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাধানের একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি থেকে সরে এসে নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে, তবে কাঙ্ক্ষিত সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি অব্যাহত থাকবে এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণসহ ইরানের পারমাণবিক অধিকারের প্রশ্নে তেহরান আপস করবে না।

গত বছর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে পাঁচ দফা আলোচনা করলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইস্যুতে মতবিরোধের কারণে সেই প্রক্রিয়া ভেঙে পড়ে। ট্রাম্পের হামলার পর তেহরান দাবি করে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত করেছে। ইরান বরাবরই বলে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করতে চায়। তবে তেহরান এ প্রস্তাব স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।

সোমবার সম্প্রচারিত এক টেলিভিশন ভাষণে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে ইরানিদের মিছিলে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জনগণের উপস্থিতি ও ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতি তাদের আনুগত্য শত্রুদের ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসী মনোভাব থেকে বিরত রাখবে।