tanaka

এশিয়ান গেমস • কাবাডিতে কোরিয়া বধের পর বাংলাদেশের চোখ পদকে

এশিয়ান গেমসে পুরুষ কাবাডিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়ে লাল-সবুজ দল এখন তাকিয়ে আছে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের দিকে। বিকেলে চাইনিজ তাইপেকে...
প্রচ্ছদটপ নিউজহাসিনাকে ভারতে গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকার ক্ষোভ

হাসিনাকে ভারতে গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকার ক্ষোভ

ভারতে অবস্থানরত পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বুধবার (৫ আগস্ট) নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার

বুধবার (৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিক্রিয়া জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক ও আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন, যা সরকার অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের চলমান প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এ আশঙ্কার বিষয়টি অনুষ্ঠানটির আগেই ভারত সরকারকে অবহিত করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি আয়োজনের সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ যখন জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করছে, তখন ভারতীয় ভূখণ্ডে শেখ হাসিনার এ ধরনের প্রকাশ্য উপস্থিতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের স্মৃতির প্রতি অবমাননাকর।

এতে উল্লেখ করা হয়, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্য-উপাত্তকে অস্বীকার করে জুলাই-আগস্ট ২০২৪ সালে সংঘটিত নিরীহ বেসামরিক নাগরিক, এমনকি শিশুদের হত্যাকাণ্ড অস্বীকারের চেষ্টা ইতিহাস বিকৃত করার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা। বাংলাদেশের জনগণ অতীতের মতো এবারও এ ধরনের অপচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করে বাংলাদেশের জনগণ দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ যে দেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকারে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশকে কোনো ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’-এ পরিণত হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার ‘মাফিয়া নেটওয়ার্কের’ বাংলাদেশের রাজনীতিতে কোনো স্থান নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক কল্যাণকর ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তবে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে দিতে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এ পরিস্থিতিতে যেকোনো অজুহাতে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং এটি বাংলাদেশ-ভারত সুসম্পর্কের বিকাশের জন্যও ক্ষতিকর।